সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ঢাকা

ওয়াইফাই রাউটারের পাশে যেসব যন্ত্রপাতি ভুলেও রাখবেন না

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ওয়াইফাই রাউটারের পাশে যেসব যন্ত্রপাতি ভুলেও রাখবেন না

বাড়িতে হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড কানেকশন থাকার পরও কি মাঝেমধ্যেই ইন্টারনেটের গতি কমে যাচ্ছে? বাফারহীন মুভি দেখা কিংবা নিরবচ্ছিন্ন গেমিং কি এখন স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে? সাধারণত আমরা মনে করি দেয়াল বা দরজার বাধায় ওয়াইফাই সিগন্যাল দুর্বল হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার ঘরের ভেতর থাকা অতি পরিচিত কিছু জিনিসই আসলে ওয়াইফাইয়ের আসল ‘যম’। জেনে নিন রাউটারের আশেপাশে কোন জিনিসগুলো রাখা বিপজ্জ্বনক।

আয়না ও ধাতব আসবাবপত্রের বাধা


বিজ্ঞাপন


ওয়াইফাই সিগন্যালের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো আয়না এবং যেকোনো ধাতব পদার্থ। আয়নার প্রতিফলক অংশ ওয়াইফাই ফ্রিকোয়েন্সিকে বাধা দেয় এবং সিগন্যালকে বাউন্স করে অন্যদিকে পাঠিয়ে দেয়। ফলে সিগন্যাল সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। অন্যদিকে, ধাতু বিদ্যুতের পরিবাহী হওয়ায় তা ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক ওয়েভ শুষে নেয় বা রিফ্লেক্ট করে। তাই রাউটারের আশেপাশে বড় আয়না বা আলমারির মতো ধাতব আসবাব না রাখাই ভালো।

ব্লুটুথ ডিভাইসের সঙ্গে ফ্রিকোয়েন্সি লড়াই

রাউটারের কাছেই অনেকে ল্যাপটপ, স্পিকার কিংবা ওয়্যারলেস কিবোর্ড রাখেন। এটি সিগন্যাল বাড়ায় না, বরং কমায়। কারণ অধিকাংশ ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ ডিভাইস একই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড (২.৪ গিগাহার্জ) ব্যবহার করে। ফলে দুটি তরঙ্গের মধ্যে সংঘাত শুরু হয় এবং ইন্টারনেটের গতি নাটকীয়ভাবে কমে যায়। দ্রুত গতির ইন্টারনেট পেতে ব্লুটুথ ডিভাইসগুলো রাউটার থেকে দূরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

wlan-1


বিজ্ঞাপন


অ্যাকোরিয়াম

শুনতে অবাক মনে হলেও, পানি ওয়াইফাই সিগন্যাল শুষে নিতে ওস্তাদ। পানির অণু বা মলিকিউল রেডিও ওয়েভের শক্তি কমিয়ে দেয়। ফলে ঘরের ভেতর বড় অ্যাকুরিয়ামম কিংবা আশেপাশে পানির ট্যাঙ্ক থাকলে সিগন্যাল ড্রপ করার আশঙ্কা থাকে প্রবল। এমনকি বৃষ্টির সময় বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বাড়লেও একই কারণে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা ধীর হয়ে যায়।

প্রতিবেশীর রাউটারের প্রভাব

আপনি যদি এমন কোনো অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন যেখানে আশেপাশে অনেক রাউটার রয়েছে, তবে সিগন্যাল ইন্টারফেয়ারেন্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু প্রায় সব রাউটার একই চ্যানেলে কাজ করে, তাই তাদের মধ্যে সংঘাত হয়। এই সমস্যা এড়াতে রাউটারের সেটিংস থেকে ফ্রিকোয়েন্সি চ্যানেল পরিবর্তন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: রাউটার কেনার আগে এই ৫টি বিষয়ে জানা জরুরি

ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে রাউটারকে সবসময় ঘরের মাঝখানে এবং কিছুটা উঁচুতে রাখার চেষ্টা করুন। সিগন্যাল বুস্ট করার ক্ষমতা থাকলে রাউটারের পাওয়ার সেটিং বাড়িয়ে নিন। মনে রাখবেন, ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলোই আপনার অনলাইন অভিজ্ঞতাকে করতে পারে আরও স্মুথ ও নিরবচ্ছিন্ন।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর