বর্তমান যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুমানো—সবখানেই যেন ফোনের উপস্থিতি। তবে এই 'স্মার্ট' ডিভাইসের ব্যবহার শিশুদের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মনোবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক কত বছর বয়সের আগে একটি শিশুর হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া উচিত নয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে আদর্শ বয়স কত?
বিজ্ঞাপন
অধিকাংশ শিশু বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি গবেষকদের মতে, অন্তত ১৪ বছর বয়সের আগে শিশুদের হাতে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিল গেটসের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও তাদের সন্তানদের ১৪ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি দেননি। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা থাকলে ১৬ বছর বয়সকে আরও নিরাপদ মনে করা হয়।

অল্প বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহারের ঝুঁকি
গবেষণায় দেখা গেছে, খুব কম বয়সে স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার সংস্পর্শে এলে শিশুদের মধ্যে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়ে-
বিজ্ঞাপন
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি: একাকীত্ব, বিষণ্ণতা এবং অল্পতেই খিটখিটে মেজাজ তৈরির পেছনে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম দায়ী।
মনোযোগের ঘাটতি: দীর্ঘক্ষণ ছোট ভিডিও বা গেমের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে শিশুদের পড়াশোনা বা সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়।
সাইবার নিরাপত্তা: ইন্টারনেটের অবাধ দুনিয়ায় শিশুরা সাইবার বুলিং বা আপত্তিকর কন্টেন্টের শিকার হতে পারে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমা তৈরি করে।

স্মার্টফোনের বিকল্প কী?
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যোগাযোগের জন্য স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ 'ফিচার ফোন' (বাটন ফোন) দেওয়া যেতে পারে। এতে জরুরি প্রয়োজনে কথা বলা যাবে, কিন্তু ইন্টারনেটের আসক্তি তৈরি হবে না। এছাড়া শিশুদের প্রযুক্তির বদলে মাঠের খেলাধুলা, বই পড়া এবং গঠনমূলক শখের (যেমন—বাগান করা বা ছবি আঁকা) প্রতি উৎসাহিত করা জরুরি।
আরও পড়ুন: শিশুর স্মার্টফোন আসক্তির ভয়াবহতা জানুন
অভিভাবকদের জন্য করণীয়
যদি নিতান্তই শিশুকে স্মার্টফোন দিতে হয়, তবে সেক্ষেত্রে 'প্যারেন্টাল কন্ট্রোল' অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত। দৈনিক ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং শিশু অনলাইনে কী দেখছে, সেদিকে নিয়মিত নজরদারি রাখা এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল আসক্তি থেকে বাঁচাতে সন্তানদের সাথে গুণগত সময় কাটানোর কোনো বিকল্প নেই।
এজেড

