স্মার্টফোন আছে অথচ সিম কার্ড নেই— এমন অবস্থায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার দিন এখন শেষ। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সিম কার্ড ছাড়াই আপনার হ্যান্ডসেট থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কল করা সম্ভব। তবে এই সুবিধার জন্য আপনার ডিভাইসে সক্রিয় ওয়াই-ফাই বা ইন্টারনেট সংযোগ থাকা বাধ্যতামূলক। সিম ছাড়াই কথা বলার কার্যকর তিনটি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো-
১. ভিওআইপি (VoIP) অ্যাপের ব্যবহার
বিজ্ঞাপন
ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল বা ভিওআইপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিম ছাড়াই কল করা যায়। বর্তমানে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ যেমন—হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), মেসেঞ্জার (Messenger), স্কাইপি (Skype) বা ভাইবার (Viber) এই সুবিধা প্রদান করে। এসব অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে উচ্চমানের অডিও-ভিডিও কল করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ফিজিক্যাল সিম কার্ড না থাকলেও ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করে লগ-ইন করা যায়।
২. ভার্চুয়াল ফোন নম্বর সার্ভিস
বর্তমানে ইন্টারনেটে এমন অনেক ওয়েবসাইট ও অ্যাপ রয়েছে যারা ব্যবহারকারীকে ভার্চুয়াল ফোন নম্বর সরবরাহ করে। এই নম্বরগুলো ব্যবহার করে আপনি প্রথাগত সিম ছাড়াই মেসেজ পাঠানো বা কল করার সুবিধা পাবেন। যারা গোপনীয়তা বজায় রাখতে চান বা দেশের বাইরে সস্তায় যোগাযোগ করতে চান, তাদের জন্য ভার্চুয়াল নম্বর একটি চমৎকার সমাধান।

বিজ্ঞাপন
৩. ওয়াই-ফাই কলিং (Wi-Fi Calling)
আধুনিক প্রায় সব স্মার্টফোনেই এখন 'ওয়াই-ফাই কলিং' ফিচারটি বিল্ট-ইন থাকে। ফোনের সেটিংস থেকে এটি চালু করে নিলে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকলেও ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে স্বচ্ছন্দে কথা বলা যায়। যদিও প্রাথমিক সেটআপের জন্য একবার সিমের প্রয়োজন হয়, তবে একবার ফিচারটি সক্রিয় হয়ে গেলে নেটওয়ার্কহীন এলাকাতেও ডায়ালার থেকে সরাসরি কল করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: সিম কার্ড কী? কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
ই-সিম (eSIM): সিমহীন ভবিষ্যতের প্রযুক্তি
ফিজিক্যাল সিম কার্ডের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি দূর করতে টেলিকম অপারেটররা এখন নিয়ে এসেছে ই-সিম (eSIM)। এটি ফোনের ভেতরে থাকা একটি বিল্ট-ইন চিপ, যা সফটওয়্যারের মাধ্যমে সক্রিয় করা হয়। এর মাধ্যমে ফোনে কোনো প্লাস্টিক সিম না ঢুকিয়েই কলিং, এসএমএস এবং ইন্টারনেট ডেটা উপভোগ করা যায়।
এজেড

