কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ‘গ্রোক’ ব্যবহার করে নগ্ন ডিপফেক ছবি তৈরি ও ছড়ানোর অভিযোগে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটেনের মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম। বিশেষ করে যৌননির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল এবং শিশুদের আপত্তিকর ছবি তৈরির মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটি নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
মূল সংবাদ: ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, অফকমের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যে গ্রোক ব্যবহার করে মানুষের পোশাকহীন ছবি তৈরি ও শেয়ার করা হচ্ছে, যা সরাসরি পর্নোগ্রাফি বা যৌন উত্তেজক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মাধ্যমে শিশুদের যৌনায়িত ছবিও তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে শিশু যৌন নির্যাতনবিষয়ক উপকরণ হিসেবে বিবেচিত।
অফকম জানিয়েছে, এই তদন্তে মূলত দুটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে-
১. যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারী এবং শিশুরা এই ধরনের অবৈধ কনটেন্টের ঝুঁকির মুখে আছে কি না।
২. এক্স এই ঝুঁকিগুলো আগে থেকে মূল্যায়ন করেছিল কি না এবং সুরক্ষাব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না।
বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক চাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর যৌন উত্তেজক কনটেন্ট নিয়ে জনমনে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এক্স-এর প্রতিক্রিয়া: অভিযোগের জবাবে এক্স জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে অবৈধ কনটেন্ট সরিয়ে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো স্থায়ীভাবে স্থগিত করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, “গ্রোক ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করলে তা সাধারণ কনটেন্ট আপলোডের মতোই একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।” বর্তমানে কেবল অর্থপ্রদানকারী (পেইড) ব্যবহারকারীরাই এই চ্যাটবট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন বলেও তারা উল্লেখ করেছে।
আরও পড়ুন: গ্রোকের অশ্লীল ছবি বিতর্ক: কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট ব্লক ও ডিলিট হলো
আইনি পরিণতি: যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, সম্মতি ছাড়া ঘনিষ্ঠ ছবি তৈরি বা শেয়ার করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে শিশুদের যৌন নির্যাতনের উপকরণ তৈরি করা গুরুতর অপরাধ। অফকম সতর্ক করেছে যে, যদি তদন্তে এক্স দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তাদের বড় ধরনের জরিমানার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বিজ্ঞাপনদাতা বা পেমেন্ট সেবাদাতাদের সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা কিংবা প্ল্যাটফর্মটি ব্লক করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে সংস্থাটি।
এজেড

