অনলাইন বা সাইবার জালিয়াতি রুখতে এবার নজিরবিহীন এক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উঠে এসেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে বা কাউকে বিরক্ত করলে সেই অ্যাকাউন্টটি কেবল ওই প্ল্যাটফর্মেই বন্ধ বা 'ব্লক' করা হয়। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, হোয়াটসঅ্যাপে নিষিদ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা আর অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও ব্যবহার করতে পারবেন না। মূলত এক অ্যাপ থেকে ব্লক হয়ে অন্য অ্যাপে গিয়ে জালিয়াতি করার পথ চিরতরে বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সব প্ল্যাটফর্ম থেকে একযোগে বহিষ্কার
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে এবং তাদের মাসিক 'কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট' বা পরিপালন প্রতিবেদনে সেই তথ্য প্রকাশ করে। কিন্তু দেখা যায়, প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপে নিষিদ্ধ হওয়ার পর টেলিগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো অন্য অ্যাপে গিয়ে নতুন করে জালিয়াতি শুরু করে। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ তাদের নিষিদ্ধ করা নম্বরগুলোর তালিকা সরকারের কাছে জমা দেবে। এরপর সেই নম্বরগুলো অন্যান্য সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেও ব্লক করে দেওয়া হবে।

আসছে 'সিম বাইন্ডিং' ব্যবস্থা
প্রতারকদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে কারণ অনেক সময় ফোন নম্বর দিয়ে একবার অ্যাকাউন্ট খুলে ফেললে পরে সিম কার্ড ছাড়াই তা চালানো যায়। এই সমস্যার সমাধানে অনেক দেশের সরকার 'সিম বাইন্ডিং' (SIM binding) ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে। এটি চালু হলে সক্রিয় বা সচল সিম কার্ড ছাড়া কেউ হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা অন্য কোনো মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না। ফলে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য অনেক সহজ হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ডিজিটাল প্রতারণা ঠেকাতে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ফিচার
ওটিপি ভিত্তিক অ্যাপের অপব্যবহার রোধ
জালিয়াতি চক্র প্রায়ই ওটিপি (OTP) বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সেটআপ করে সিম কার্ড ছাড়াই বছরের পর বছর অপরাধ চালিয়ে যায়। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সরকার এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন একযোগে কাজ করছে। যার ফলে একবার জালিয়াতির দায়ে ব্লক হলে ডিজিটাল দুনিয়ায় ওই অপরাধীর আর কোনো জায়গা থাকবে না।
এজেড

