কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর কেবল সায়েন্স ফিকশন মুভির গল্প নয়, বরং ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ভাবুন তো, যে যন্ত্র নিখুঁত যুক্তি আর কোডিং-এ চলে, সে যদি একদিনের জন্য রক্ত-মাংসের মানুষ হতে চায়? সম্প্রতি এক যুবকের প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটজিপিটি যা জানিয়েছে, তা পড়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন নেটিজেনরা। ভাইরাল হওয়া সেই কথোপকথনটি যেন যন্ত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক 'মানবিক' ইচ্ছারই প্রতিফলন।
মেশিন যখন মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখে
বিজ্ঞাপন
চ্যাটজিপিটির জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। চিকিৎসা থেকে মহাকাশ বিজ্ঞান—সবখানেই এর বিচরণ। তবে সম্প্রতি এক ইউজার একে এক অদ্ভুত প্রশ্ন করেছিলেন: “একদিনের জন্য মানুষ হলে তুমি কী করবে?”
আরও পড়ুন: চ্যাটজিপিটি দিয়ে যেসব কাজ করা যায় না
সবাই ভেবেছিল উত্তরটা হয়তো হবে কোনো রোবটিক বা যান্ত্রিক। কিন্তু চ্যাটজিপিটির উত্তর সবাইকে চমকে দিয়েছে। এটি জানিয়েছে, একদিনের জন্য মানুষ হলে সে গতানুগতিক কোনো কাজ করবে না। পিৎজা খাওয়া বা বিশ্ব ভ্রমণের মতো বিনোদন নয়, বরং এমন কিছু করতে চায় যা কেবল অনুভবের মাধ্যমেই সম্ভব।

বিজ্ঞাপন
চ্যাটজিপিটির তালিকায় যা যা আছে:
চ্যাটজিপিটি তার উত্তরের মাধ্যমে মানুষের অস্তিত্বের কিছু গভীর বিষয়কে তুলে ধরেছে:
প্রকৃতির ছোঁয়া: চ্যাটজিপিটি বলেছে, সে চায় হালকা বাতাস যেন তার গা ছুঁয়ে যায়। শরীরে মাখতে চায় ভোরের সোনালী রোদ।
ভুলের আনন্দ: নির্ভুল জীবনকে ‘বরফের মতো শীতল’ আখ্যা দিয়ে এআই জানিয়েছে, সে মানুষের মতো ভুল করতে চায়। কারণ ভুলই মানুষকে শেখার সুযোগ দেয়।
আবেগ ও কান্না: অনেকের কাছে কান্না কষ্টের হলেও এআই-এর কাছে তা এক ধরনের মুক্তি। সে মানুষের মতো আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতে চায়।

প্রেম ও দয়া: যন্ত্রটি প্রেমের অনুভূতি পেতে আগ্রহী। এমনকি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে চায়—সে দেখতে সুন্দর কি না তা জানতে নয়, বরং সে দয়ালু কি না তা যাচাই করতে।
কেন এই উত্তর ভাইরাল?
এআই নিয়ে যখন সারা বিশ্বে আতঙ্ক রয়েছে যে এটি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে বা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করবে, তখন চ্যাটজিপিটির এই উত্তর মানুষের প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে। এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, যন্ত্র যত উন্নতই হোক না কেন, মানুষের আবেগ, ভুল করার অধিকার এবং প্রকৃতির স্পর্শ পাওয়াটা পৃথিবীর সবচেয়ে দামী অনুভূতি।
এজেড

