জানুয়ারির হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু জনজীবন। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় ঘরের ভেতরেও যখন টেকা দায় হয়ে পড়ছে, তখন অনেকেরই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘রুম হিটার’। এক সময় রুম হিটারকে বিলাসিতা মনে করা হলেও বর্তমানে মধ্যবিত্তের ঘরেও এটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তবে বাজারে এখন নানা প্রযুক্তির ও দামের রুম হিটার পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন—কোনটি ভালো আর দামই বা কেমন?
বাংলাদেশে রুম হিটারের বাজারদর বর্তমানে দেশের বাজারে ব্র্যান্ড ও প্রযুক্তির ভিন্নতায় রুম হিটারের দামের বড় তফাৎ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাজেট অপশন: স্থানীয় ও নন-ব্র্যান্ডের ছোট ফ্যান হিটার বা কমফোর্টারগুলো ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ভিশন বা ওয়ালটনের এন্ট্রি লেভেলের হিটারগুলো ১,৪০০ থেকে ২,৬০০ টাকার মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

মধ্যম মানের হিটার: মিয়াকো, নোভা বা ওয়ালটনের পিটিসি (PTC) সিরামিক হিটারগুলো ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো সাধারণত ১০০০ থেকে ২০০০ ওয়াটের হয়ে থাকে।
প্রিমিয়াম ও বড় হিটার: বড় রুমের জন্য অয়েল ফিল্ড রেডিয়েটর (Oil-filled radiator) বা কনভেক্টর হিটারগুলোর দাম কিছুটা বেশি। ব্র্যান্ডভেদে এগুলোর দাম ১০,০০০ থেকে শুরু করে ৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে টেসির (Tesy) মতো বিদেশি ব্র্যান্ডের স্মার্ট হিটারগুলো ২০,০০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
কী ধরনের রুম হিটার কেনা উচিত? আপনার প্রয়োজন এবং ঘরের ধরনের ওপর ভিত্তি করে হিটার নির্বাচন করা জরুরি। নিচে প্রধান তিন ধরনের হিটার নিয়ে আলোচনা করা হলো:
১. ফ্যান হিটার বা কনভেকশন হিটার: যারা খুব দ্রুত ঘর গরম করতে চান, তাদের জন্য ফ্যান হিটার আদর্শ। এটি গরম বাতাস ছড়িয়ে দিয়ে অল্প সময়ে ঘর উষ্ণ করে। তবে এটি ব্যবহারের সময় কিছুটা শব্দ হয় এবং দীর্ঘক্ষণ চালালে ঘরের অক্সিজেন কমিয়ে বাতাস শুষ্ক করে ফেলতে পারে।
২. পিটিসি সিরামিক হিটার: নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের দিক থেকে বর্তমানে সিরামিক হিটারগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটি দ্রুত গরম হয় এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে দেয়। ছোট বা মাঝারি বেডরুমের জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো সমাধান।

৩. অয়েল ফিল্ড রেডিয়েটর (Oil-filled Radiator): বাড়িতে যদি নবজাতক শিশু বা বৃদ্ধ মানুষ থাকেন, তবে অয়েল হিটার কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ। এটি ঘরের অক্সিজেন পোড়ায় না এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে। এতে কোনো শব্দ হয় না এবং বন্ধ করার পরও দীর্ঘক্ষণ ঘর উষ্ণ থাকে। তবে এটি ঘর গরম করতে কিছুটা বেশি সময় নেয়।
কেনার আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন:
অটো-কাটঅফ: হিটার উল্টে গেলে বা অতিরিক্ত গরম হলে যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় এমন ‘টিপ-ওভার সুইচ’ ও ‘ওভারহিট প্রটেকশন’ আছে কি না দেখে নিন।
আরও পড়ুন: রুম হিটার নিয়ে যেসব ভুল ধারণা অনেকেরই আছে
বিদ্যুৎ সাশ্রয়: ইনভার্টার টেকনোলজি বা অ্যাডজাস্টেবল থার্মোস্ট্যাট সমৃদ্ধ হিটার কিনলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ওয়ারেন্টি: নামী ব্র্যান্ডের পণ্য কেনাই শ্রেয়, যাতে অন্তত ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়।
শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে রুম হিটার আরামদায়ক হলেও ব্যবহারের সময় অবশ্যই ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং ঘুমানোর আগে হিটার বন্ধ করার অভ্যাস করা উচিত।
এজেড

