ক্যাচ মিস তো ম্যাচও মিস। এ বাক্যটি হয়তো মনে ছিল না টাইগ্রেসদের। শেফালি ভার্মাকে চারবার জীবন দিলেন। এই সুযোগে ভারতের ওপেনার খেললেন ঝড়ো ইনিংস। দল পৌঁছে গেল দেড়শর কাছে। সেই স্কোর তাড়া করার শক্তি তো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নেই।
অনুমিতভাবেই ভারতের কাছে পাত্তা না পেয়ে আবারও সেমি-ফাইনালেও শেষ নিগার সুলতানার দলের পথচলা।নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।
যেখানে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। ফলে ফাইনালে উঠতে হলে বাংলাদেশকে করতে হতো ১৫০ রান।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই স্লো ব্যাটিং করতে থাকে বাংলাদেশের দুই ওপেনার দিলারা আক্তার এবং জুহায়াইরা ফেরদৌস। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ২৬ রানের মাথায় জুয়াইরিয়া বিদায় নেন ব্যক্তিগত ১৮ বলে ১৪ রান করে। এরপর ২৬ বলে ২১ রান করে আউট দিলারাও।
ওই অবস্থায় অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এবং সোবহানা মোস্তারি দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছেন। ২৪ বলে ১৮ রানে উইকেট দিয়ে দলকে উল্টো বিপদে ফেলে যান সোবহানা। জ্যোতিও বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারেননি, ফিরেছেন ১৭ বলে ১৯ রানে। শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ২২ এবং ফাহিমার ১৪ রান কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছে।
টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারেই শুরু করে ক্যাচ ছাড়ার পালা। সুলতানা খাতুনের বলে শেফালির ক্যাচ ফেলে দেন ফাহিমা খাতুন।
ওই ওভারেই অবশ্য ধরা দেয় প্রথম উইকেট। উড়িয়ে মারার চেষ্টায় স্বর্ণা আক্তারের হাতে ধরা পড়েন ভারতের সেরা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা।
ভারতকে আরও চাপে ফেলা যেত পরের ওভারেই। কিন্তু মারুফা আক্তারের বলে এবার শেফালির ক্যাচ ছাড়েন নাহিদা আক্তার। আগ্রাসী ব্যাটার এর খেসারত বুঝিয়ে দেন পুরোপুরি। পরের ওভারেই টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি সুলতানাকে।
আরেক পাশে প্রাতিকা রাওয়াল একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও খুব গতিময় হতে পারেননি। পাওয়ার প্লে শেষে নাহিদা, ফাহিমা, রাবেয়াদের স্পিনে ভারতের রানের গতি যায় কমে। টানা চার ওভারে আসেনি বাউন্ডারি। এর মধ্যেই প্রাতিকা (৪ বলে ২০) ফেরেন রাবেয়ার বলে।
১০ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ৫৯। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা মারুফার বলে টানা দুটি বাউন্ডারিতে রানের গতিতে আবার দম দেন শেফালি। অধিনায় হারমানপ্রিত নেমেও ভুগছিলেন রান করতে। তবে শেফালির ব্যাটে ছুটতে থাকে ভারত। সুলতানাকে টানা তিন বলে এক ছক্কা দুই চার মেরে পরের বলে আবার বড় শটের চেষ্টায় শেষ হয় তার ইনিংস।
এরপরও ভারতকে আবার চেপে ধরতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ক্যাচ নিতে পারলে তো! রিচা ঘোষের ক্যাচ নিতে না পেরে ছক্কা বানিয়ে দেন ফাহিমা। এই কিপার-ব্যাটার পরে ছক্কা মারেন আরেকটি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২১ রান।
হারমানপ্রিতের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৮ বলে ৬। পরে দুটি ছক্কা মেরে অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ২৪ করে। শেষ দিকে দীপ্তি শার্মার ব্যাট থেকেও আসে ছক্কা ও চার।
শেষ ১০ ওভারে ভারত তোলে ৯০ রান।
এআরএম




