শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

পাকিস্তানের কোচের চেয়ার এখন মিউজিক্যাল গেম, ৩ বছরে বদল ৬ জন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

পাকিস্তানের কোচের চেয়ার এখন মিউজিক্যাল গেম, ৩ বছরে বদল ৬ জন

পাকিস্তান ক্রিকেট এখন যেন এক অস্থিরতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। লাল বলের ক্রিকেটে মাত্র তিন বছরেই ছয়জন হেড কোচ বদলে ফেলেছে তারা। একই সময়ে ভারতের ছয় কোচ বদলাতে লেগেছে ১৮ বছর আর বাংলাদেশের ১৩ বছর। এই তুলনাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, সমস্যা শুধু মাঠে নয়; মূল জট আটকে আছে ব্যবস্থাপনায়।

গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্ন থেকে শুরু করে মোহাম্মদ হাফিজ, জেসন গিলেস্পি, আজহার মাহমুদ, সরফরাজ আহমেদ এখন আবার মাইক হেসন। প্রতিটি নতুন মুখ আসার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন পরিকল্পনা, কিন্তু কাউকেই থিতু হওয়ার সময় দেওয়া হয়নি। একটা সিরিজ খারাপ গেলেই পুরো ব্যবস্থাপনা ভেঙে নতুন করে সাজানো হয়। এই ধারাবাহিক অস্থিরতার সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ ইংল্যান্ড সফর।

আরও পড়ুন-‘পিসিবির কাণ্ডজ্ঞানহীনতায় পাকিস্তান হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে’

হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানের হারে সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর সিরিজ চলাকালীনই সরফরাজ আহমেদকে হেড কোচ ও উমর গুলকে বোলিং কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাতজন খেলোয়াড়কেও দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা। মাঝপথে দল সাজাতে ডাকা হয় সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম একে ‘গত ৫০ বছরে পাকিস্তানের সবচেয়ে বাজে দল’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

আরও পড়ুন-‘প্যান্ট বদলানোর মতো সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান’

এই অস্থিরতার কেন্দ্রে আছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মহসিন নাকভি, যিনি একই সঙ্গে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। ২০২৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের পর তিনি দায়িত্ব নিয়ে ‘অস্ত্রোপচার’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আড়াই বছর পরও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইংল্যান্ড সফরের সিদ্ধান্তের পর প্রধান নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। বোর্ড এখনো তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি।

আরও পড়ুন- পাকিস্তান ক্রিকেটকে প্রেশার কুকারের সঙ্গে তুলনা অজি কিংবদন্তির

সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ সরাসরি বোর্ডকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, দায় শুধু খেলোয়াড়দের নয়। শহীদ আফ্রিদি ও শোয়েব মালিকও বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। মালিকের প্রশ্ন ছিল, দায়বদ্ধতার শুরুটা খেলোয়াড় থেকে না হয়ে ব্যবস্থাপনা থেকে হওয়া উচিত ছিল। সমালোচনার জবাবে নাকভি বলেছেন, তিনি সমালোচনায় ভয় পান না এবং র‌্যাঙ্কিং দেখে বিচার করতে বলেছেন।

সাদা বলে তুলনামূলক ভালো র‌্যাঙ্কিং আর লাল বলে বিপর্যয়; দুই মাপকাঠি দিয়ে বোর্ড নিজের সাফল্য-ব্যর্থতা বেছে বেছে দেখায় বলেও সমালোচনা হচ্ছে। এর আগে এশিয়া কাপে ভারতের সঙ্গে হ্যান্ডশেক বিতর্ক ঘিরেও একই ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়েছিল- সংবাদ সম্মেলন বাতিল, মাঠে দেরিতে নামার ঘটনা ও আম্পায়ার সরানোর দাবি। প্রতিটি ঘটনাতেই সিদ্ধান্ত হয়েছে তাৎক্ষণিক আবেগ থেকে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে নয়।

এসটি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর