ক্রিকেটের মাঠে রাজনীতির ছায়া পড়লেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল এখনো হাল ছাড়েননি। ভারতের সঙ্গে তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে; সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। দুই বোর্ডই সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে আন্তরিক এবং নতুন সময়সূচি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এমনটাই জানায় ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে।
তামিম বলেন, “সিরিজ হবে না, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। বিসিবি ও বিসিসিআই দুই পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। নতুন উইন্ডো খুঁজে দেখা হচ্ছে। যদি নেতিবাচক মনোভাব থাকত, তাহলে আমি আজ এ কথাগুলোও বলতাম না।” তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দলেরই ব্যস্ত সময়সূচি রয়েছে। বাংলাদেশের সামনে আরও তিনটি সিরিজ আছে। তারপরও নিয়মিত যোগাযোগ চলছে এবং সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেকেরই ধারণা, সিরিজ আর আয়োজিত নাও হতে পারে। কিন্তু তামিম সেই ধারণার বিপরীতে আশাবাদী। তিনি বলেন, কিছু বিষয় তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সভাপতি হিসেবে তিনি সেই সীমারেখা অতিক্রম করতে চান না। তবে দুই বোর্ডের ইচ্ছা ইতিবাচক, এটাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
একই সাক্ষাৎকারে তামিম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে কয়েকজনের নাম প্রেস রিলিজের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। আরও চার-পাঁচজনের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। আইনজীবীর অনুমোদন পাওয়া মাত্রই সেই তথ্য প্রকাশ করা হবে। ইন্টিগ্রিটির প্রশ্নকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
আরও পড়ুন-ইমরান খানের মুক্তিতে একাট্টা ক্রিকেট দুনিয়া
আরও পড়ুন-গার্দিওলার চোখে ব্যালন ডি’অর জয়ী হবেন যে
২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন তামিম। তাঁর মতে, বিষয়টি আরও ভালোভাবে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সামলানো যেত।
শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তামিম বলেন, বিষয়টি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা যেত। মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় পুরো দেশ হতাশ হয়েছিল। তিনি নিজেও সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি। কিন্তু বিশ্বকাপ একটি বড় আসর। বাংলাদেশ যখন প্রথমবার যোগ্যতা অর্জন করেছিল, তখন পুরো দেশ উৎসবে মেতে উঠেছিল। তাই আলোচনা আরও সতর্ক ও স্মার্টভাবে করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
তামিম বলেন, “আমি এখন আইসিসির সদস্য। সেই সময়ের আলোচনায় যেসব কথাবার্তা হয়েছিল, সেগুলো প্রকাশ করলে অনেকেই অবাক হবেন। কিন্তু সম্মানের খাতিরে আমি সেসব বলতে পারব না। শুধু এটুকুই বলব, আমরা শুরুতেই এমন জায়গায় চলে গিয়েছিলাম, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
তিনি ক্রীড়াকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার ওপর জোর দেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ চলাকালীনও ইরান আমেরিকায় খেলতে গিয়েছিল। সেই তুলনায় এই পরিস্থিতি অনেক ছোট। ক্রীড়াকে ক্রীড়া হিসেবেই দেখা উচিত বলে তার বিশ্বাস।
এসটি




