নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে রবিবার রাতটা যেন টেনিস ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য অধ্যায় হয়ে রইল। বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী নোভাক জোকোভিচ মাত্র প্রথম রাউন্ডেই হেরে গেলেন। প্রতিপক্ষ ছিলেন বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৪৯ নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনার মারিয়ানো নাভোনে। চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের নাটকীয় লড়াইয়ে ৭-৬ (৭-৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ স্কোরে জয় পেয়েছেন নাভোনে।
এই হার জোকোভিচের ক্যারিয়ারে অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। ইউএস ওপেনে তিনি এর আগে কখনোই প্রথম রাউন্ডে হারেননি। কোনো গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম ম্যাচেও শেষ হারের ঘটনা ঘটেছিল ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রায় ২০ বছর আগে। চারবারের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন এবং বর্তমানে বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষ পাঁচের খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এখনও শক্তিশালী ছিলেন। কিন্তু শরীর আজ তাঁকে সঙ্গ দিল না।
আরও পড়ুন-ইমরান খানের মুক্তিতে একাট্টা ক্রিকেট দুনিয়া
আরও পড়ুন-ব্রুনোর হ্যাটট্রিকে ম্যানইউর গোল উৎসব
ম্যাচের শুরুতে জোকোভিচ ভালো ছিলেন। সার্ভ ভেঙে এগিয়েও গিয়েছিলেন। তবে নিউ ইয়র্কের আর্দ্র আবহাওয়ায় তাঁর শরীরে সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ র্যালির পর গতি কমে যায়, সার্ভ ও গ্রাউন্ডস্ট্রোকে আগের ধার আর দেখা যায়নি। প্রথম সেটের মাঝামাঝি সময়ে চিকিৎসকের সাহায্য নেন এবং ওষুধও খান। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকে প্রথম সেট হারান তিনি।
দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ান জোকোভিচ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেক পয়েন্ট কাজে লাগিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে সেট জিতে সমতা ফেরান। তৃতীয় সেটেও অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে নাভোনের সার্ভ ভেঙে ৬-৪-এ জিতে ২-১ সেটে এগিয়ে যান। তখন মনে হচ্ছিল, আবারও তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু চতুর্থ সেটে চিত্র পাল্টে যায়। শারীরিক দুর্বলতা আরও প্রকট হয়। ম্যাচ চলাকালে একাধিকবার বমি করেন তিনি। সুযোগ বুঝে নাভোনে আক্রমণ চালিয়ে ৬-২-এ চতুর্থ সেট জিতে নিয়ে যান।
শেষ সেটে আর লড়াই জমাতে পারেননি জোকোভিচ। চলাফেরা করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। নাভোনে চাপ বাড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে যান। এক পর্যায়ে জোকোভিচকে কোর্টে কাঁদতেও দেখা যায়। শারীরিক কষ্টের সঙ্গে ম্যাচের আবেগও তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ৬-১ ব্যবধানে পঞ্চম সেট জিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় জয় নিশ্চিত করেন নাভোনে।
ম্যাচ শেষে দুজন নেটের কাছে একে অপরকে অভিনন্দন জানান। জোকোভিচ বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমার কিছুই নেই।” অন্যদিকে নাভোনে জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।”
টেনিস বিশ্ব এই ফলকে শতাব্দীর অন্যতম বড় অঘটন হিসেবেই দেখছে। নাভোনের জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বপ্নের জয়। বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে হারিয়ে তিনি ইউএস ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন।
এসটি




