১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ। গ্রুপ ‘এফ’-এর একটি ম্যাচকে ঘিরে লিয়ঁ শহরের ‘স্তাদ দ্য জেরল্যান্ড’ স্টেডিয়ামে তখন টানটান উত্তেজনা। ম্যাচটি সাধারণ কোনো ফুটবল ম্যাচ ছিল না; মুখোমুখি হয়েছিল রাজনৈতিকভাবে চরম দুই চিরবৈরী দেশ- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। ম্যাচের গুরুত্ব এবং এর পেছনের ভূরাজনৈতিক আবহ দেখে তৎকালীন মার্কিন সকার ফেডারেশনের নির্বাহী পরিচালক হ্যাঙ্ক স্টেইনব্রেচার ম্যাচটিকে অভিহিত করেছিলেন ‘মাদার অব অল গেম’ হিসেবে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই ছিল এই দুই দলের প্রথম মুখোমুখি লড়াই। কিক-অফের বহু আগে থেকেই মাঠের বাইরের রাজনৈতিক কূটনীতি আর দীর্ঘদিনের বৈরিতা ম্যাচটিকে বিশেষ রূপ দিয়েছিল। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক তিক্ততার কারণে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, মাঠের ভেতরে হয়তো চরম বিশৃঙ্খলা বা বৈরি পরিবেশ তৈরি হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন- গ্রুপ পর্ব পেরোলেই আর্জেন্টিনার অগ্নিপরীক্ষা, প্রতিপক্ষ যে দল
আরও পড়ুন- গ্রুপ পর্ব পেরোলে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে যে দল
কিন্তু ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ইতিহাস যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ নিল। গত ২০ বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্কে যে চরম শত্রুতা ও নেতিবাচক মনোভাব আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল, ফুটবল মাঠে তার বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়ল না। হিংসা-বিদ্বেষকে এক নিমেষেই উড়িয়ে দিয়ে জয় হলো বন্ধুত্বের।
ম্যাচের প্রাক-মুহূর্তে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। ইরানি ফুটবলাররা মাঠে নামার পর শান্তির প্রতীক হিসেবে মার্কিন খেলোয়াড়দের হাতে বিশাল বিশাল সাদা গোলাপের তোড়া তুলে দেন। শুধু তাই নয়, ফিফার প্রথা ভেঙে দুই দলের খেলোয়াড়রা আলাদাভাবে না দাঁড়িয়ে, একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একটি যৌথ দলীয় ছবি তোলেন।
বিজ্ঞাপন
ইতিহাসের বাঁক ঘুরে এবার আরও একটি বিশ্বকাপে ‘মাদার অব অল গেম’ মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ এবার উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর তা যদি বাস্তবে হয় তবে এবারও লম্বা সময় ধরে চলা যুদ্ধ ও কূটনৈতিক-রাজনৈতিক বৈরিতার মাঝেই মাঠে নামবে দুই দলের ফুটবলাররা।
আর তা যদি হয় তাহলে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ হবে এটি। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা:
১. রাউন্ড অব ৩২-এ মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা
বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলবে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে গ্রুপ ‘ডি’-তে যেখানে তাদের সঙ্গে আছে অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে ও তুরস্ক। এই দুই দলই যদি নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে তবে পরবর্তী রাউন্ড অব ৩২ এই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মুখোমুখি হবে। ফিফার ফিফার নকআউট ব্র্যাকেট বিশ্লেষণ করে এমনটাই জানা গেছে।
এক্ষেত্রে গ্রুপে দ্বিতীয় হতে ইরানকে বেশ বেগ পোহাতে হতে পারে। কেননা গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিশর- এই দুই দলই অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকেও চ্যালেঞ্জ জানাবে অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে ও তুরস্ক।
২. রাউন্ড অব ১৬-তেও দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা
নক আউট পর্বে রাউন্ড অব ৩২-এ মুখোমুখি না হলেও পরের পর্ব অর্থাৎ, রাউন্ড অব ১৬-তেও দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে গ্রুপ পর্বের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দলকেই প্রথম নক আউট পর্ব পেরোতে হবে। তবে এক্ষেত্রে দুই দলকেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাউন্ড অব ৩২ উঠতে হবে। এরপর এই পর্বে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে যেতে হবে রাউন্ড অব সিক্সটিনে।
এছাড়া এই দুই পর্বে মুখোমুখি না হলেও, দুই দলই যদি প্রথম দুইটি নক আউট পর্ব উতরে যায়, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে। তবে সেক্ষেত্রে মিলতে হবে অনেক হিসাব-নিকাশ।




