দরজায় কড়া নাড়ছে ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বড় মহোৎসব ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু উত্তর আমেরিকার আকাশে শুধু উৎসবের রং নয়, উঠছে সতর্কতার লাল আলো। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মেঘ যেন ছায়া ফেলছে স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। এবারের আসরে দল ও ভেন্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্টের বড় ভার পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। মোট ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই হবে মার্কিন শহরগুলোতে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন- ২০২৬ বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ ‘মেসির’
আরও পড়ুন- বিশ্বকাপের দল ঘোষণা আর্জেন্টিনার, যারা আছেন
আরও পড়ুন- চমক রেখে বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল ঘোষণা ব্রাজিলের
তবে এই বড় আয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইসহ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এই আসরকে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।
বিজ্ঞাপন
দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এফবিআই এজেন্ট বলেন, 'পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।' দল ও ভেন্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গোয়েন্দাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কর্মকর্তা জাভেদ আলী (ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের অধ্যাপক এবং সাবেক এফবিআই-ডিএইচএস কর্মকর্তা) জানান, শুধু স্টেডিয়াম নয়, দর্শকদের যাতায়াতের রাস্তা, ট্রান্সপোর্ট হাবসহ প্রতিটি সংযোগস্থলকে নিরাপদ রাখতে হবে। কিন্তু এত বড় আয়োজনে সম্পদের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। 'এতগুলো ম্যাচ, এতগুলো জায়গা ঝুঁকি কমাতে সম্পদ যথেষ্ট নয়,' বলেন তিনি।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো জনবহুল এলাকায় একাকী হামলাকারী দের সম্ভাব্য তৎপরতা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার চেষ্টায় যে যোগাযোগের ঘাটতি দেখা গিয়েছিল, বিশ্বকাপের মতো বিশাল ইভেন্টে তার পুনরাবৃত্তি হলে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
এফবিআই ইতোমধ্যে দেশজুড়ে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি জোরদার করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্টেডিয়ামের বাইরের ‘সফট টার্গেট’ (ফ্যান জোন, পরিবহন ইত্যাদি) নিরাপত্তা আরও জটিল চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান




