- লিটনরা না থাকলেও বিশ্বকাপে থাকছেন বাংলাদেশি ধারাভাষ্যকার
- বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রতিবাদ পাল্টে দেবে বিশ্ব ক্রিকেট
- পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট নিয়ে মুখ খুললো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড
- বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ঠিক কাজই করেছে
- ‘ভারতের সঙ্গেও কি আইসিসি বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মতো কঠোরতা দেখাত পারত?’
সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিগ ব্যাশে খেলে নতুন ইতিহাস গড়েছেন রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হ্যারিকেনসের হয়ে অভিষেক আসরেই স্বপ্নের মতো পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন টাইগার লেগ স্পিনার। ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে দলের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
বিগ ব্যাশের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড় হয়ে ওঠা। এবং দলকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখাসব মিলিয়ে রিশাদের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গর্বের।
বিগ ব্যাশ শেষ করে দেশে ফিরেই নিজের ছন্দ ধরে রেখেছেন রিশাদ। অদম্য বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ধূমকেতু একাদশের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান তিনি। মাত্র ২১ রান খরচায় তুলে নেন ৩ উইকেট। আকবর আলীর দুরন্ত একাদশকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে ধূমকেতু একাদশ, আর সেই জয়ের পেছনেও বড় অবদান ছিল এই লেগ স্পিনারের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রথমবার বিগ ব্যাশ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন রিশাদ। বিগ ব্যাশ আর বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় পরিবেশের পার্থক্য তুলে ধরে রিশাদ বলেন, “বিগ ব্যাশ আর বাংলাদেশের কন্ডিশন আলাদা, খেলার পরিবেশ একেবারেই আলাদা। তবে যদি খেলার পরিবেশের কথা বলি, আমার মনে হয় এটা আমাদের দেশে আরও একটু উন্নত করা সম্ভব। হোটেল থেকে শুরু করে সবকিছু একেক দলের একেক রকম। তবে বাংলাদেশেও খারাপ না।”
বিজ্ঞাপন
তার মতে, কেবল কন্ডিশন নয়- মানসিকতা ও পেশাদার পরিবেশই একজন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে। বিশ্ব ক্রিকেটের তারকা ক্রিকেটারদের সান্নিধ্যে এসে তাদের ব্যক্তিত্বেও মুগ্ধ হয়েছেন রিশাদ। বিশেষ করে স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের মতো তারকাদের বিনয়ী আচরণ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
রিশাদের ভাষায়, “ওরা অনেক বিনয়ী। যত বড় ক্রিকেটারই হোক না কেন, ওরা খুব সহজ-সরল। বড়-ছোট ভেদাভেদ করে না। এটা আমার খুব ভালো লেগেছে এবং আমিও ওরকম হওয়ার চেষ্টা করব। দক্ষতার দিক থেকে উনিশ-বিশ হতে পারে, কিন্তু মানসিকতা আর ভালো পরিবেশটাই সবচেয়ে জরুরি।”
বিগ ব্যাশ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার ব্রেট লির সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। সেই ছবির পেছনের গল্পও শোনান রিশাদ। তিনি বলেন, “আমি আসলে ছবি তুলতে চাইনি, তখন বোলিং করছিলাম। উনারাই ডাকছিলেন, এদিকে আসো। এমনিতেই কথা হচ্ছিল। ওনারা খুবই ফ্রেন্ডলি। ওনাদের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে, চেষ্টা করছি যতটুকু সম্ভব কথা বলার এবং শেখার।”
হোবার্ট হ্যারিকেনসে রিশাদকে দলে নেয়ার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের। পন্টিংয়ের সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তাও হয়েছে তার।
রিশাদ জানান, “প্রতিদিনই দেখা হতো, যেহেতু একই দলে ছিলাম। টুকটাক কথা হয়েছে, অনেক কিছু শেয়ার হয়েছে।” এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে বাংলাদেশের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গেও দেখা করেন রিশাদ। তার কাছ থেকেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু পরামর্শ নেন তিনি।
১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট সংখ্যার দিক থেকে সফল হলেও নিজের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন রিশাদ। তার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা আরও বড়। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “চ্যাম্পিয়ন হলে সন্তুষ্ট হতাম।”
একসময় জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন না রিশাদ হোসেন। সেই কঠিন সময়টাই আজকের রিশাদকে গড়ে তুলেছে বলে মনে করেন তিনি। তার কথায়, “যখন খেলতে পারতাম না, তখনও সেটা আমার জন্য একটা লার্নিং ছিল। ওই সময় অনেক কিছু এক্সপেরিয়েন্স করেছি, নিজেকে তৈরি করেছি।”
এসটি

