কিডনি রোগের নাম শুনলেই সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের আতঙ্ক দানা বাঁধে। বিশেষ করে কিডনি বিকল হলে ডায়ালাইসিস বা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আমেরিকান গবেষকদের দাবি, অদূর ভবিষ্যতে ডায়ালাইসিস বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে আক্রান্ত কিডনি।
সম্প্রতি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন, হার্ভার্ড এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-র গবেষকেরা কিডনি রোগের নিরাময়ে এএভি (AAV) জিন থেরাপি নিয়ে যুগান্তকারী এক গবেষণা শুরু করেছেন। এই পদ্ধতিতে মূলত ত্রুটিপূর্ণ জিনকে সুস্থ জিন দিয়ে প্রতিস্থাপন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

যেভাবে কাজ করবে এই থেরাপি
এই বিশেষ থেরাপির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো ভাইরাসের ব্যবহার। গবেষকরা এক্ষেত্রে সর্দি-কাশির জন্য দায়ী সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাসকে বাহক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পদ্ধতিটি অনেকটা এরকম-
ভাইরাসকে বিষমুক্ত করা: প্রথমে ভাইরাসটির ক্ষতিকারক উপাদান সরিয়ে সেটিকে নির্বিষ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সুস্থ জিন বহন: এরপর সেই ভাইরাসের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় একটি সুস্থ জিন।

ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত: ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশের পর ভাইরাসটি সুস্থ জিনটিকে কিডনির নির্দিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পৌঁছে দেয়। সেখানে পৌঁছে জিনটি ত্রুটিপূর্ণ জিনকে সরিয়ে ফেলে এবং ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে মেরামত করতে শুরু করে।
আরও পড়ুন: সমুদ্রের গভীরে ‘অদৃশ্য বাদুড়’: ডুবোজাহাজের রণকৌশলের নেপথ্য বিজ্ঞান
ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপনের দিন কি শেষ?
গবেষকদের মতে, কিডনি রোগের মূল কারণ হলো আক্রান্ত বা ত্রুটিপূর্ণ জিন। যদি সরাসরি সেই মূলে আঘাত হেনে জিন বদলে দেওয়া যায়, তবে কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পাবে। এর ফলে রোগীকে বছরের পর বছর ডায়ালাইসিস করতে হবে না এবং দীর্ঘসূত্রিতা ও ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তাও কমে আসবে।

গবেষণার বর্তমান পর্যায়
বর্তমানে এই চিকিৎসাপদ্ধতিটি পরীক্ষামূলক স্তরে রয়েছে। যেহেতু কিডনির গঠন অত্যন্ত জটিল, তাই সঠিক জায়গায় নিখুঁতভাবে সুস্থ জিন পৌঁছে দেওয়াই এখন গবেষকদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই পরীক্ষা সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সাধারণ রোগীদের জন্য এই থেরাপি সহজলভ্য হবে, যা বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ কিডনি রোগীর জীবন বাঁচাবে। আর এই পদ্ধতি সফল হলে ডায়ালাইসিস নির্ভরতা অনেকখানি কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এজেড




