পৃথিবীর বুক থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছে কোটি কোটি বছর আগে। কিন্তু আজও মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে তাদের এমন সব রহস্য, যা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সম্প্রতি চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ডাইনোসরের এমন এক নতুন প্রজাতির জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা, যার সারা শরীরে ছিল সজারুর মতো তীক্ষ্ণ কাঁটা। অতীতে এই গোত্রের আর কোনো ডাইনোসরের শরীরে এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যায়নি।
'কাঁটাযুক্ত ড্রাগন' বা হাওলং ডঙ্গি
বিজ্ঞাপন
গবেষকরা এই নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতির নাম দিয়েছেন ‘হাওলং ডঙ্গি’ (Huailong dangi)। মান্দারিন ভাষায় যার অর্থ হলো ‘কাঁটাযুক্ত ড্রাগন’। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়াত এই অদ্ভুত দর্শন প্রাণীটি। ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের একদল গবেষক উত্তর-পূর্ব চীনে এই জীবাশ্মটি খুঁজে পান, যার বিস্তারিত গবেষণা সম্প্রতি বিখ্যাত ‘নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
আত্মরক্ষার প্রাকৃতিক বর্ম
নতুন এই প্রজাতিটি মূলত তৃণভোজী ইগুয়ানোডন্টিয়ান (Iguanodontian) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত এই শ্রেণির ডাইনোসরদের শরীরে পালক সদৃশ আবরণ থাকলেও, ‘হাওলং ডঙ্গি’র ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জীবাশ্মটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়-
এর পিঠ এবং শরীরের দুই পাশে সামনের দিক থেকে পেছনমুখী অসংখ্য কাঁটা ছিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: তাপ থেকে বিদ্যুৎ! বিশ্ব উষ্ণায়ন রুখতে যুগান্তকারী আবিষ্কার ৫ বাঙালির
কাঁটাগুলো বিভিন্ন মাপের; ক্ষুদ্রতম ২-৩ মিলিমিটার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৪ মিলিমিটার বা তার বেশি দৈর্ঘ্যের।
আড়াই মিটার লম্বা এই ডাইনোসরটি ছিল মূলত চারপেয়ে, তবে প্রয়োজনে দুই পায়েও দাঁড়াতে পারত।
কেন এই বিবর্তন?
গবেষকদের প্রাথমিক ধারণা, সেই সময়ের হিংস্র মাংসাশী ডাইনোসরদের (যেমন- টি-রেক্স) হাত থেকে বাঁচতেই বিবর্তনের ধারায় এদের শরীরে এমন কাঁটার সৃষ্টি হয়েছিল। সজারুর মতো এই কাঁটাগুলো শিকারিদের আক্রমণ থেকে রক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করত। তবে এটি একটি কিশোর ডাইনোসরের জীবাশ্ম হওয়ায়, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এই কাঁটাগুলো স্থায়ী থাকত কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন দেখছেন বিজ্ঞানীরা।
এজেড

