বিশ্ব উষ্ণায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক নতুন আশার আলো দেখালেন একদল বাঙালি বিজ্ঞানী। তাদের আবিষ্কৃত বিশেষ ধরনের এক স্ফটিক এখন পরিত্যক্ত তাপকে ব্যবহারযোগ্য ‘সবুজ বিদ্যুৎ’ বা গ্রিন ইলেকট্রিসিটিতে রূপান্তর করতে পারবে। সম্প্রতি আমেরিকার ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’-এ (PNAS) এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্ভাবনের নেপথ্যে ‘থ্যালিয়াম সিলভার আয়োডাইট’
বিজ্ঞাপন
সাধারণত তাপ কণার বিচ্ছুরণের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। তবে গবেষকদের আবিষ্কৃত ‘থ্যালিয়াম সিলভার আয়োডাইট’ নামের এই স্ফটিকটি তাপকে তরঙ্গের আকারে প্রবাহিত করে। ফলে উৎপন্ন তাপকে পদার্থের মধ্যেই আটকে রাখা সম্ভব হয়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যই তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তরের কাজকে সহজ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্লু স্প্যারো: খামেনি হত্যায় ব্যবহৃত পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর মিসাইল
পরিবেশ রক্ষায় বিপ্লব
গবেষণার প্রধান, বেঙ্গালুরুর জওহরলাল নেহরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্টিফিক রিসার্চ-এর (JNCASR) শিক্ষক কণিষ্ক বিশ্বাস জানান, যেকোনো শক্তি উৎপাদনের সময় প্রায় ৬৫ শতাংশই তাপ হিসেবে পরিবেশে মিশে গিয়ে উষ্ণতা বাড়ায়। এই স্ফটিকটি সেই বাড়তি তাপের অন্তত ২০ শতাংশ ধরে রাখতে পারবে। এর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ হবে সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত, যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞাপন

ব্যবহারিক প্রয়োগ
এই প্রযুক্তি অত্যন্ত সহজলভ্য ও সহজে স্থাপনযোগ্য। এটি ব্যবহার করা যাবে:
গাড়ি ও এসি: গাড়ির ইঞ্জিন বা এসির উত্তপ্ত অংশে এটি স্থাপন করলে তা বাড়তি বিদ্যুৎ জোগান দেবে।
গৃহস্থালি ও শিল্প: বড় রেস্তোরাঁর উনুন বা কারখানার চুল্লির পাশে এটি স্থাপন করে পরিত্যক্ত তাপ থেকে শক্তি উৎপাদন সম্ভব।
কৃতি ৫ বাঙালি
এই অসামান্য সাফল্যের পেছনে রয়েছেন পাঁচজন কৃতি বাঙালি গবেষক। কণিষ্ক বিশ্বাসের নেতৃত্বে এই দলে আরও আছেন ঋদ্ধিময় পাঠক, সায়ন পাল, শুভ বিশ্বাস এবং স্বপন পতি। তারা প্রত্যেকেই যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, মেদিনীপুর কলেজ এবং শ্রীচৈতন্য কলেজের মতো পশ্চিমবঙ্গের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী।
বিজ্ঞানীদের মতে, ক্ষুদ্রাকৃতির যন্ত্রের মাধ্যমে এই স্ফটিক ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারলে তা আগামী দিনে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
এজেড

