চলতি ২০২৬ সালের শুরুতেই মহাকাশে ঘটতে চলেছে এক বিরল ঘটনা। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে আকাশে দেখা যাবে সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনী অমাবস্যায় হবে সূর্য গ্রহণ এবং তার ঠিক দুই সপ্তাহ পর ৩ মার্চ দোল পূর্ণিমায় লাগবে চন্দ্র গ্রহণ। পঞ্জিকা মতে, ফাল্গুন মাসেই এই জোড়া গ্রহণের সমাপতনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও আতঙ্ক। জ্যোতিষবিদরা একে ‘অশুভ সংকেত’ হিসেবে দেখলেও বিজ্ঞানীরা একে বলছেন নিছক এক মহাজাগতিক কাকতালীয় ঘটনা।
সূর্য গ্রহণ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বছরের প্রথম এই সূর্য গ্রহণটি হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। এটি মূলত একটি ‘বলয়গ্রাস’ সূর্য গ্রহণ, যা আকাশে ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগুনের আংটির মতো দেখাবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই গ্রহণটি অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে দেখা গেলেও বাংলাদেশ বা ভারত থেকে দেখা যাবে না। ফলে এ অঞ্চলে এর কোনো সরাসরি জাগতিক প্রভাব পড়বে না।

চন্দ্র গ্রহণ: ৩ মার্চ ২০২৬
সূর্য গ্রহণের ঠিক ১৫ দিন পর ৩ মার্চ, মঙ্গলবার দোল পূর্ণিমার রাতে ঘটবে চন্দ্র গ্রহণ। এই গ্রহণটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া ও আমেরিকা থেকে দেখা যাবে। এটি বাংলাদেশ ও ভারত থেকেও আংশিকভাবে দৃশ্যমান হবে। ঢাকা থেকে ৩ মার্চ সন্ধ্যা ৫টা ৫৯ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত এই গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

বিজ্ঞান কী বলছে?
যদিও জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহণের সময় খাওয়া-দাওয়া বা ঘর থেকে বেরোনো নিষেধ করা হয়, তবে বিজ্ঞানীরা এসবের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাননি। তবে বিশেষজ্ঞরা একটি বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন—কখনোই সরাসরি খালি চোখে বা সাধারণ চশমা দিয়ে সূর্য গ্রহণ দেখা উচিত নয়। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। চন্দ্র গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্য এমন কোনো বাধা নেই।
আরও পড়ুন: ২০২৬ সালে সূর্যগ্রহণ কয়টি?
বিজ্ঞান বলছে মহাজাগতিক নিয়মে গ্রহণ হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ওপর প্রকৃতির প্রভাবকে বিশ্বাস করে আসছে।
এজেড




