বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

চাঁদে অবকাশযাপনের সুযোগ! তৈরি হচ্ছে ৫ স্টার হোটেল

বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২২ এএম

শেয়ার করুন:

চাঁদে অবকাশযাপনের সুযোগ! তৈরি হচ্ছে ৫ স্টার হোটেল
চাঁদে অবকাশযাপনের সুযোগ! তৈরি হচ্ছে ৫ স্টার হোটেল

কল্পবিজ্ঞান সিনেমার সেই দৃশ্যগুলো এখন বাস্তব হওয়ার পথে। নীল আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদে পা রাখার কয়েক দশক পর মানুষ এখন সেখানে ছুটি কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক সময় যা ছিল কেবল স্বপ্ন, ২০৩২ সাল নাগাদ তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পৃথিবী থেকে কয়েক লক্ষ কিলোমিটার দূরে মহাশূন্যের নির্জনতায় গড়ে উঠছে বিলাসীবহুল আবাসন। যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন এবং আকাশছোঁয়া খরচ করার সামর্থ্য রাখেন, তাদের জন্য পৃথিবীর উপগ্রহে অপেক্ষা করছে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপ ‘গ্যালাকটিক রিসোর্স ইউটিলাইজেশন’ (জিআরইউ) চাঁদে প্রথম স্থায়ী হোটেল তৈরির এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


চাঁদে থাকার স্বপ্ন যখন সত্যি

ক্যালিফোর্নিয়ার এই প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা করেছে যে, তারা চাঁদে বিশ্বের প্রথম স্থায়ী হোটেল তৈরি করছে। এখানে পর্যটকরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারবেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ইতিমধ্যেই তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বের নামী সব প্রতিষ্ঠান যেমন—এনভিডিয়া, স্পেসএক্স, ওয়াই কম্বিনেটর এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা ‘অ্যান্ডুরিল’ এই হোটেল নির্মাণে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

হোটেলের ভাড়া ও বুকিং প্রক্রিয়া

এই প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছেন ২১ বছর বয়সী তরুণ প্রকৌশলী স্কাইলার চ্যান। চ্যান ইতিমধ্যেই হোটেলের বুকিং নেওয়া শুরু করেছেন। তবে এই আভিজাত্যের স্বাদ নিতে পকেট থেকে গুনতে হবে বিশাল অংকের অর্থ।


বিজ্ঞাপন


GRU-Space-moon-hotel-758x397

অগ্রিম বুকিং: যারা আগেভাগে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে চান, তাদের দিতে হবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার।

প্রতি রাতের ভাড়া: দাবি করা হচ্ছে, এই হোটেলে এক রাত থাকার খরচ শুরু হবে ৪ লাখ ১০ হাজার ডলার।

আবেদন ফি: যারা এই ‘লুনার হোটেল’ বা চন্দ্রিমা হোটেলে থাকতে আগ্রহী, তাদের আবেদন ফি হিসেবেই দিতে হবে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার মার্কিন ডলার।

চাঁদের মাটি দিয়েই তৈরি হবে স্থাপনা

এই হোটেলের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর নির্মাণ শৈলী। কোম্পানিটি জানিয়েছে, হোটেলটি তৈরিতে পৃথিবী থেকে কোনো রড বা সিমেন্ট নেওয়া হবে না; বরং চাঁদের মাটি ব্যবহার করেই এই স্থাপনা তৈরি করা হবে। এর আগে মহাকাশে নির্মিত সব কাঠামো পৃথিবী থেকে নেওয়া উপকরণ দিয়ে তৈরি হলেও, এবারই প্রথম স্থানীয় মাটি দিয়ে নির্মাণ কাজ চালানো হবে। এটি যেমন খরচ কমাবে, তেমনি চাঁদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতেও সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন: পৃথিবীর দানেই চাঁদ হচ্ছে বাসযোগ্য!

মহাকাশ অভিযানে নতুন বিপ্লব

চাঁদে হোটেল নির্মাণের এই পরিকল্পনা সফল হলে মহাকাশ বিজ্ঞানে এক বিশাল বিপ্লব ঘটবে। এটি কেবল পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং গবেষণার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহেও মানুষের বসতি গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। হয়তো আগামী এক দশকের মধ্যেই মানুষ পৃথিবী ছাড়িয়ে সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহেও স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে নেবে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর