বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

পৃথিবীর দানেই চাঁদ হচ্ছে বাসযোগ্য!

বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

পৃথিবীরে দানেই চাঁদ হচ্ছে বাসযোগ্য!

সৌরজগতের আদিমতম প্রতিবেশী পৃথিবী এবং চাঁদ। গত সাড়ে ৪০০ কোটি বছর ধরে তাদের সম্পর্ক কেবল মহাকর্ষীয় টানেই সীমাবদ্ধ নয় বরং পৃথিবী অত্যন্ত গোপনে তার একমাত্র উপগ্রহকে আগলে রেখেছে, পুষ্ট করছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবী তার নিজের বায়ুমণ্ডল থেকে বিভিন্ন জীবনদায়ী উপাদান পাঠিয়ে চাঁদের ভাণ্ডার পূর্ণ করছে, যা ভবিষ্যতে সেখানে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসছে।

সংঘর্ষ থেকে জন্ম, তারপর নিবিড় আদান-প্রদান


বিজ্ঞাপন


বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে মঙ্গলগ্রহের সমান বিশাল এক মহাজাগতিক বস্তুর ধাক্কায় পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চাঁদের জন্ম হয়েছিল। এতদিন ধারণা করা হতো, চাঁদে প্রাণের কোনো চিহ্ন নেই এবং এর পরিবেশ সম্পূর্ণ শুষ্ক। কিন্তু সত্তরের দশকে অ্যাপোলো অভিযানের আনা পাথর ও মাটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, চাঁদের বুকে জল, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, হিলিয়াম এবং আর্গনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদার্থের স্তর রয়েছে।

88f38d069fb2fb95d4f0b9704a900e64

রহস্যের নতুন চাবিকাঠি: পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র

আগে মনে করা হতো, সূর্যের তীব্র বিকিরণ বা সৌরবায়ুর মাধ্যমে এসব কণা চাঁদে পৌঁছায়। তবে বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন ছিল, বিপুল পরিমাণ নাইট্রোজেন কীভাবে সেখানে গেল? এতদিন ধারণা ছিল, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র বায়ুমণ্ডলীয় কণাগুলোকে বাইরে যেতে বাধা দেয়।


বিজ্ঞাপন


কিন্তু আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টারের বিজ্ঞানীরা আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রমাণ করেছেন যে, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র কণাগুলোকে আটকে রাখে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে সৌরবায়ুর সাথে মিলে এগুলোকে চাঁদের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে। ‘নেচার কমিউনিকেশন্‌স আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবী এভাবেই তার উপগ্রহের ‘পেট ভরাচ্ছে’।

1870574

চাঁদে বসতি গড়া এখন সময়ের অপেক্ষা?

এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। গবেষক এরিক ব্ল্যাকম্যান জানিয়েছেন, চাঁদের মাটিতে সংরক্ষিত এই কণাগুলো আসলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বিবর্তনের এক জীবন্ত ইতিহাস।

স্বয়ংসম্পূর্ণতা: চাঁদে জল এবং নাইট্রোজেনের উপস্থিতির অর্থ হলো, ভবিষ্যতে সেখানে মহাকাশচারীদের দীর্ঘ মেয়াদে থাকার জন্য পৃথিবী থেকে অক্সিজেন বা প্রয়োজনীয় রসদ বয়ে নেওয়ার নির্ভরতা অনেক কমে যাবে।

আরও পড়ুন: নরওয়ের আকাশে হঠাৎ কীসের ঝলকানি? 

ইতিহাসের দলিল: চাঁদের মাটি পরীক্ষা করে পৃথিবীর আদি জলবায়ু, সমুদ্রের গঠন এবং প্রাণের বিবর্তন সম্পর্কে এমন সব তথ্য পাওয়া সম্ভব, যা পৃথিবীতে কোটি কোটি বছরের ভৌগোলিক পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে গেছে।

পৃথিবী যেন পরম মমতায় তার সন্তান চাঁদকে তিল তিল করে গড়ে তুলছে আগামীর এক বাসযোগ্য পৃথিবী হিসেবে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, পৃথিবীর এই ‘গোপন উপহার’ই একদিন চাঁদের বুকে মানুষের পদচিহ্নকে স্থায়ী রূপ দেবে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর