রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ইনডাকশন না কি ইনফ্রারেড: কোনটি আপনার রান্নাঘরের জন্য সেরা? 

বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ইনডাকশন না কি ইনফ্রারেড: কোনটি আপনার রান্নাঘরের জন্য সেরা? 
ইনডাকশন না কি ইনফ্রারেড চুলা ভালো? কোনটি কিনবেন

রান্নার গ্যাসের দাম এখন আকাশচুম্বী, আবার অনেক এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। এমন পরিস্থিতিতে স্বস্তি পেতে অনেকেই ঝুঁকছেন বৈদ্যুতিক চুলার দিকে। তবে বাজারে গিয়ে ক্রেতারা সাধারণত দুই ধরনের চুলার সম্মুখীন হন— ইনডাকশন (Induction) এবং ইনফ্রারেড (Infrared)। 

এই দুই প্রযুক্তির চুলার মধ্যে পার্থক্য কী, কোনটি বেশি সাশ্রয়ী এবং কোনটি কেনা আপনার জন্য লাভজনক হবে, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন।


বিজ্ঞাপন


ইনডাকশন চুলা

দ্রুতগতি ও নিরাপত্তার সেরা সমন্বয়ইনডাকশন চুলা কাজ করে তড়িৎ-চৌম্বকীয় (Electro-magnetic) শক্তির মাধ্যমে। এই চুলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিজে গরম হয় না, কেবল চুলার ওপর রাখা পাত্রটিকে গরম করে।

Difference-Between-Induction-Plate-and-Infrared-Plate

ইনডাকশন চুলার সুবিধা


বিজ্ঞাপন


এটি অত্যন্ত দ্রুত রান্না শেষ করে এবং জ্বালানি অপচয় প্রায় শূন্য। হাত লাগলে পুড়ে যাওয়ার ভয় নেই, তাই এটি নিরাপদ।

ইনডাকশন চুলার অসুবিধা

এই চুলায় সাধারণ হাড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায় না। কেবল লোহা বা স্টেইনলেস স্টিলের বিশেষ 'ম্যাগনেটিক' তলাযুক্ত পাত্রই ব্যবহার করতে হয়।

ইনফ্রারেড চুলা

যেকোনো পাত্রে রান্নার সুবিধাইনফ্রারেড চুলা মূলত হিট রেডিয়েশনের মাধ্যমে কাজ করে। এর ভেতরে থাকা কয়েল গরম হয়ে ওপরের গ্লাসটিকে উত্তপ্ত করে।

Induction-Cooker-in-Bangladesh

ইনফ্রারেড চুলার সুবিধা

এই চুলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো যেকোনো ধরনের পাত্র— অ্যালুমিনিয়াম, সিরামিক, মাটির পাতিল বা নন-স্টিক— এতে ব্যবহার করা যায়। রান্নার পর চুলাটি বেশ কিছুক্ষণ গরম থাকে, যা খাবার গরম রাখতে সাহায্য করে।

ইনফ্রারেড চুলার অসুবিধা

এটি ইনডাকশন চুলার চেয়ে সামান্য ধীরগতির এবং রান্নার সময় চুলার ওপরের অংশ বেশ গরম হয়ে যায়, যা অসাবধানতাবশত ছোঁয়া লাগলে বিপজ্জনক হতে পারে। 

557117426_765996546431126_3085659838655651_n

খরচ ও বিদ্যুৎ বিলের তুলনা

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিক থেকে বিচার করলে ইনফ্রারেড চুলার তুলনায় ইনডাকশন চুলা অনেক বেশি কার্যকর। ইনডাকশন প্রযুক্তি সরাসরি রান্নার পাত্রকে উত্তপ্ত করে বলে এতে তাপের অপচয় হয় না বললেই চলে, ফলে রান্না হয় খুব দ্রুত। অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলায় প্রথমে কয়েল ও গ্লাস গরম হয় এবং তারপর তাপ পাত্রে সঞ্চালিত হয়, যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ এবং এতে বিদ্যুতের অপচয় তুলনামূলক বেশি।

আরও পড়ুন: গ্যাস সংকটে রান্নার সেরা বিকল্প: কোনটি আপনার জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ?

সাধারণ একটি পরিবারের তিন বেলা রান্নার হিসেব করলে দেখা যায়, একটি ভালো মানের ইনডাকশন চুলায় মাসে গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল আসতে পারে। অন্যদিকে, একই পরিমাণ রান্নায় ইনফ্রারেড চুলার ক্ষেত্রে মাসিক বিল ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা বা তার কিছু বেশি হতে পারে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, বিদ্যুতের ইউনিটের দাম এবং রান্নার সময়ের ওপর ভিত্তি করে এই খরচ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। তবুও দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করলে ইনডাকশন চুলাই বেশি লাভজনক।

ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার দাম কেমন?

বাংলাদেশের বাজারে ব্র্যান্ড এবং মানভেদে এই দুই ধরনের চুলার দাম প্রায় কাছাকাছি। সাধারণত ভালো মানের একটি ইনডাকশন বা ইনফ্রারেড চুলা ৩,৫০০ টাকা থেকে ৬,৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। মিয়াকো, ভিশন, ওয়ালটন বা প্যানাসনিকের মতো ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি।

ইলেকট্রিক চুলা কেনার টিপস

কেনার আগে যা খেয়াল করবেন

১. ওয়াট চেক করুন: সাধারণত ২,০০০ ওয়াটের চুলাগুলো বাসাবাড়ির জন্য আদর্শ।

২. অটো-কাট অফ ফিচার: নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা হলে বা পাত্র না থাকলে চুলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে কি না দেখে নিন।

আরও পড়ুন: ইলেকট্রিক চুলায় বিদ্যুৎ খরচ কেমন?

৩. কন্ট্রোল প্যানেল: টাচ কন্ট্রোল প্যানেলের চুলাগুলো পরিষ্কার করা সহজ।

৪. ওয়ারেন্টি: অবশ্যই অন্তত ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি দেখে কিনবেন।

এজেড

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর