শীতের সকালে বা কনকনে ঠান্ডায় আমরা যখন কথা বলি বা শ্বাস ছাড়ি, তখন মুখ দিয়ে কুয়াশার মতো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এটি কোনো জাদুকরী বিষয় নয়, বরং পদার্থবিজ্ঞানের ঘনীভবন (Condensation) প্রক্রিয়ার একটি চমৎকার উদাহরণ। নিচে এর বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
১. শরীরের তাপমাত্রা বনাম বাইরের তাপমাত্রা
বিজ্ঞাপন
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৯৮.৬° ফারেনহাইট (৩৭° সেলসিয়াস) থাকে। আমাদের ফুসফুস থেকে যে বাতাস বের হয়, তা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার সমান উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকে। অন্যদিকে, শীতকালে বাইরের বাতাসের তাপমাত্রা অনেক কম থাকে।
২. জলীয় বাষ্প ও সম্পৃক্ততা
আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প (গ্যাসীয় অবস্থায় পানি) নির্গত হয়। উষ্ণ বাতাস অনেক বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। কিন্তু বাতাস যখন খুব শীতল হয়, তখন তার জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
বিজ্ঞাপন
৩. ঘনীভবন প্রক্রিয়া
যখন আমরা উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস মুখ দিয়ে বের করি, তখন তা মুহূর্তের মধ্যে বাইরের হিমশীতল বাতাসের সংস্পর্শে আসে। এই হঠাৎ সংস্পর্শে উষ্ণ নিঃশ্বাস দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। বাতাস ঠান্ডা হওয়ার সাথে সাথে এর ভেতরে থাকা জলীয় বাষ্পগুলো আর গ্যাসীয় অবস্থায় থাকতে পারে না।

৪. দৃশ্যমান ধোঁয়া বা কুয়াশা
অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পগুলো তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণায় বা তরল বিন্দুতে পরিণত হয়। এই ক্ষুদ্র জলকণাগুলো যখন বাতাসে ভেসে বেড়ায়, তখন সেগুলোকে আমাদের চোখে ধোঁয়ার মতো বা মেঘের মতো মনে হয়। একেই আমরা মুখ থেকে বের হওয়া 'ধোঁয়া' বলে থাকি। মূলত এটি এক ধরণের তাৎক্ষণিক কুয়াশা।
কিছু মজার তথ্য:
আর্দ্রতা: বাইরের বাতাস যত বেশি শুষ্ক এবং ঠান্ডা হবে, ধোঁয়া তত বেশি স্পষ্ট দেখা যাবে।
গ্রীষ্মকালে কেন হয় না?
গ্রীষ্মকালে বাইরের বাতাসের তাপমাত্রা শরীরের তাপমাত্রার কাছাকাছি থাকে, ফলে নিঃশ্বাসের জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হওয়ার সুযোগ পায় না।

পশুপাখির ক্ষেত্রে: শুধু মানুষ নয়, শীতকালে গরু, ঘোড়া বা কুকুরের নিঃশ্বাসের সাথেও একইভাবে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: তাপমাত্রা কততে নামলে শীত অনুভূত হয়?
মুখ থেকে ধোঁয়া বের হওয়া আসলে নিঃশ্বাসের উষ্ণ জলীয় বাষ্পের দ্রুত শীতল হয়ে তরল বিন্দুতে রূপান্তরের ফল। এটি আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ উষ্ণতা এবং শীতকালীন পরিবেশের তাপমাত্রার পার্থক্যের একটি দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ।
এজেড

