মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ইসলামে ধৈর্যের পুরস্কার

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৭:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ইসলামে ধৈর্যের পুরস্কার

ধৈর্য একটি মহৎ গুণ। প্রিয়নবী (স.) সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল ছিলেন। ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ হয়েও তাঁকে অবিশ্বাসীদের বহু জুলুম-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তবুও তিনি সবসময় ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। মহান আল্লাহই তাঁকে এই অমূল্য নেয়ামত দান করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর আপনি ধৈর্যধারণ করুন, আপনার ধৈর্য হবে আল্লাহর সাহায্যেই।’ (সুরা আন-নাহাল: ১২৭)

অভাব-অনটন, মৃত্যুর ভয় ইত্যাদি ছাড়া ধৈর্যধারণ করার সুযোগ নেই, তাই আল্লাহ বিপদ-মসিবত দিয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা নেন। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। আর তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। (সুরা বাকারা: ১৫৫)

আরও পড়ুন: জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবির বৈশিষ্ট্য

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, নিশ্চয় ধৈর্যশীলদের অপরিমিত পুরস্কার দেয়া হবে। (সুরা জুমার: ১০)

ধৈর্যের আরেক নাম সফলতা। কারণ ‘মহান আল্লাহ ধৈর্য ধারণকারীর সঙ্গে থাকেন’ (সুরা বাকারা: ১৫৩)। আর আল্লাহ যার সঙ্গে থাকবেন, তার সফলতা অবধারিত। তাই মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদেরও ধৈর্যধারণের তাগিদ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধরো ও ধৈর্যে অটল থাকো এবং পাহারায় নিয়োজিত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হও।’ (সুরা আলে ইমরান: ২০০)

শুধু তা-ই নয়, ধৈর্যধারণ মহান আল্লাহর কাছে এতটাই প্রিয় যে তিনি ধৈর্যের বিনিময়ে পুরস্কার বাড়িয়ে দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের দুবার প্রতিদান দেওয়া হবে এ কারণে যে তারা ধৈর্যধারণ করে এবং ভালো দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করে। আর আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। (সুরা আল কাসাস: ৫৪)

আরও পড়ুন: যেসব গুনাহের কারণে রিজিক কমে যায়

বিপদে ধৈর্যধারণ করার কারণে গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়, একইসঙ্গে আল্লাহর রহমতও অর্জিত হয়। মসিবতে যে মহান প্রভুর প্রশংসা করে, আল্লাহ তাআলা বিনিময়ে তার উপর রহমত করেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তারা সে সব লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা বাকারা: ১৫৭)

অতএব একজন মুমিন সুখে থাকলে যেমন আল্লাহর শুকরিয়া করবেন তেমনি বিপদ-মসিবত, রোগ-শোকে ধৈর্যের গুণে গুণান্বিত হবেন—এটাই স্বাভাবিক। হাদিসে এসেছে, মুমিনের বিষয়টি বড় আশ্চর্য রকমের, বিপদে পড়লে এতে সে ধৈর্য ধরে আবার সুখে থাকলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। তবে উভয় অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর।’ (সহিহ মুসলিম: ২৯৯৯)

আরও পড়ুন: ঈমান যেভাবে সাহসী করে

ধৈর্যকে সর্বোত্তম নেয়ামত আখ্যা দিয়ে নবীজি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীলতা দান করেন। ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোনো নেয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (বুখারি: ১৪৬৯)

আবু উমামা থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে বনি আদম, যদি তুমি ধৈর্যধারণ করো ও প্রথম দুঃখের সময় অধৈর্য না হয়ে তাতে সাওয়াবের আশা করো, তাহলে আমি তোমার জন্য জান্নাত ছাড়া কোনো প্রতিদানে সন্তুষ্ট হবো না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৫৯৭)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে ধৈর্যশীলতার মহৎ গুণ অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর