শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

যেসব সুরা রাতে তেলাওয়াতের ফজিলত বেশি

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২২, ০৫:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

পবিত্র কোরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। প্রতিটি হরফ তেলাওয়াতের বিনিময়ে সর্বনিম্ন ১০টি নেকি পাওয়া যায়। দিন-রাত যেকোনো সময় কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত আছে। তবে বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট কিছু আয়াত ও সুরার তেলাওয়াতে রয়েছে বিশেষ ফজিলত। এখানে কয়েকটি আয়াত ও সুরা রাতে পড়ার ফজিলত আলোচনা করা হলো।

সুরা বাকারা শেষ দুই আয়াতে সারারাত ইবাদতের সওয়াব
সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। পূর্ববর্তী আসমানি গ্রন্থগুলোতেও এই দুটি আয়াত উল্লেখ থাকার কথা জানা যায়। আবু মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, সুরা বাকারার শেষে এমন দুটি আয়াত রয়েছে যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দুটি তেলাওয়াত করবে তার জন্য এ দুটি আয়াত যথেষ্ট। (বুখারি: ৪০০৮)


বিজ্ঞাপন


আয়াতুল কুরসি পাঠে আল্লাহর নিরাপত্তা 
রাসুল (স.) বলেন, ‘তুমি যখন শয্যা গ্রহণ করবে, তখন ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়বে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না।’ (বুখারি: ২৩১১)

সুরা মুলক সুপারিশ করবে পরকালে 
হাদিসে পাওয়া যায়, রাসুল (স.) এই সুরা না পড়ে কখনো ঘুমাতে যেতেন না। (তিরমিজি: ২৮৯২)
রাসুল (স.) বলেছেন, ‘কোরআনের মধ্যে ৩০ আয়াতবিশিষ্ট একটি সুরা আছে, যেটি কারো পক্ষে সুপারিশ করলে তাকে মাফ করে দেওয়া হয়। সুরাটি হলো তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক)।’ (তিরমিজি: ২৮৯১)

সুরা ওয়াকেয়া পাঠ করলে অভাব দূর হয়
উসমান (রা.) বলেন, আমি রাসুল (স.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকেয়া পাঠ করবে, সে কখনো উপবাস থাকবে না।’ (তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন: ৮/১০৬; ইবনে কাসির: ৪/২৮১)

তিনবার ইখলাস পাঠে পূর্ণ কোরআনের সওয়াব
মহানবী (স.) একবার সাহাবিদের বলেন, তোমরা কি এক রাতে কোরআন মাজিদের এক-তৃতীয়াংশ পড়তে পারবে? সাহাবিরা এ প্রস্তাবকে খুবই কঠিন মনে করলেন। ফলে তারা বলল, আমাদের মধ্যে এ কাজ কে করতে পারবে? মহানবী (স.) তখন বলেন, সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। (বুখারি: ৫০১৫)


বিজ্ঞাপন


‘তিন কুল’ পাঠে শয়তানের অনিষ্টতা থেকে রক্ষা
মুআজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) বলেন, এক বর্ষণমুখর খুবই অন্ধকার কালো রাতে নামাজ পড়ার জন্য আমরা রাসুলুল্লাহ (স.)-কে খুঁজছিলাম। আমরা তাঁকে পেয়ে গেলাম। তিনি বলেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় তিনি বলেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বলেন, বলো। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, কী বলব? তিনি বলেন, তুমি সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে তিনবার সুরা ইখলাস, সুরা নাস ও ফালাক পড়বে। এতে তুমি যাবতীয় অনিষ্ট হতে রক্ষা পাবে। (আবু দাউদ: ৫০৮২)

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন দুই হাত একত্র করে তাতে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দিতেন। অতঃপর মাথা ও চেহারা থেকে শুরু করে যত দূর সম্ভব পুরো শরীরে তিনবার দুই হাত বোলাতেন।’ (বুখারি: ৫০১৭)

যত বেশি তেলাওয়াত তত বেশি মর্যাদা
রাতে কোরআন তেলাওয়াতের আয়াতসংখ্যার পরিমাণ অনুযায়ী তেলাওয়াতকারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে ১০টি আয়াত তেলাওয়াত করে সে গাফেল বলে গণ্য হবে না, আর যে ব্যক্তি ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করে সে আনুগত্যশীল বলে গণ্য হবে, আর যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করে তার জন্য সওয়াবের ভাণ্ডার লেখা হবে।’ (আবু দাউদ: ১৪০০)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সবসময় কোরআন তেলাওয়াতের তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত আয়াত ও সুরা রাতে পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন