রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ঢাকা

সাহাবিদের ওপর কঠিন নির্যাতনের চিত্র

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

সাহাবিদের ওপর কঠিন নির্যাতনের চিত্র

ইসলামের ইতিহাসে সাহাবিদের ওপর নির্যাতনের চিত্র ছিল খুবই ভয়াবহ। পৌত্তলিকদের মাধ্যমে নানা বীভৎস নির্যাতনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে সাহাবিদের জীবনীতে। ইসলামগ্রহণের কারণে তাঁদেরকে মক্কার মুশরিকরা সীমাহীন জুলুম-অত্যাচার চালাত। 

অভিজাত-সাধারণ কোনো শ্রেণির মুসলিমই কাফের-মুশরিকদের অত্যাচার থেকে রেহাই পাননি। ইসলাম গ্রহণের পর উসমান ইবনে আফফান (রা.)-কে খেজুরের চাটাইয়ের মধ্যে জড়িয়ে ধোঁয়া দিত তাঁর চাচা।


বিজ্ঞাপন


মুসআব ইবনে উমায়ের (রা.) অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও আয়েশের মধ্যে প্রতিপালিত হন। ইসলাম গ্রহণের পর মা তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন এবং পানাহার বন্ধ করে দেন। ক্ষুধা ও কষ্টে তার শরীর খোলস ছাড়ানো সাপের গায়ের মতো হয়ে যায়। 

হজরত বেলাল (রা.) ছিলেন উমাইয়া ইবনে খালফের ক্রীতদাস। ইসলাম গ্রহণের অপরাধে সে বেলাল (রা.)-এর গলায় রশি বেঁধে উচ্ছৃঙ্খল বালকদের হাতে তুলে দিত, তাকে নির্মমভাবে প্রহার করত, উত্তপ্ত বালির ওপর শুইয়ে বুকের ওপর ভারি পাথর দিয়ে চাপা দিয়ে রাখত। এমন কঠিন সময়েও বেলাল (রা.) ‘আহাদ’, ‘আহাদ’ (আল্লাহ এক, আল্লাহ এক) বলে চিৎকার করতেন। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আবু বকর (রা.) তাঁকে কিনে স্বাধীন করে দেন।

আরও পড়ুন: হাকিম ইবনে হিজাম (রা.): ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি, যাঁর জন্ম কাবা শরিফের ভেতরে

ইতিহাসের আরেক হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো খাব্বাব (রা.)-এর ওপর মনিবের নির্যাতন। খাব্বাব ইবনে আরত (রা.) খোজায়া গোত্রের উম্মে আনসার নামে এক নারীর ক্রীতদাস ছিলেন। পৌত্তলিকরা তাঁর ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালাত। পৌত্তলিকরা তাঁকে মাটির ওপর টানত, তাঁর মাথার চুল ধরে টানত এবং ঘাড় মটকে দিত, কয়েকবার  জ্বলন্ত কয়লার ওপর শুইয়ে বুকে চাপা দিয়ে রাখত। জিন্নিরাহ নাহদিয়া তাদের কন্যা ও উম্মে উবাইস ছিলেন ক্রীতদাসী, সুহাইব রুমি (রা.) ছিলেন আবদুল্লাহ বিন জারআনের মুক্ত করা দাস। তারাও পৌত্তলিকদের কঠোর নির্যাতনের মুখোমুখি হন।


বিজ্ঞাপন


বিশিষ্ট সাহাবি আম্মার (রা.)-এর পরিবার কঠিন নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছিলেন। আম্মার ইবনে ইয়াসার (রা.) ছিলেন বনু মাখজুমের ক্রীতদাস। তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণে তাঁর বাবাকেও ভয়াবহ নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। তাদের উত্তপ্ত রোদে মরুভূমির ওপর শুইয়ে রাখা হতো।

এমন সময় একদিন রাসুলুল্লাহ (স.) সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘হে ইয়াসার পরিবার, ধৈর্যধারণ করো, তোমাদের ঠিকানা হচ্ছে জান্নাত।’ অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ইয়াসার (রা.) ইন্তেকাল করেন এবং আবু জাহেল লজ্জাস্থানে তীর নিক্ষেপ করে আম্মার (রা.)-এর আম্মা সুমাইয়া (রা.)-কে শহীদ করে দেন। ইসলামের জন্য তিনিই ছিলেন প্রথম শহিদ।

আরও পড়ুন: জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবির বৈশিষ্ট্য

পৌত্তলিকরা বীভৎস উপায়ে মুসলিমদের কষ্ট দিত। যেমন, উট ও গাভির কাঁচা চামড়ার ভেতর জড়িয়ে রোদে ফেলে রাখা, লোহার বর্ম পরিয়ে তপ্ত পাথরের ওপর শুইয়ে রাখা, হাত-পা বেঁধে দুষ্টু ছেলেদের লেলিয়ে দেওয়া, চাবুক দিয়ে পেটাত। (তথ্যসূত্র: আর-রাহিকুল মাখতুম; নবীয়ে রহমত; মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস)

প্রথম দিকের সাহাবিদের বিশেষ সম্মাননা : মক্কায় ঈমানি পরীক্ষায় আত্মত্যাগী সাহাবিদের ‘সাবিকুনাল আউয়ালুন’ (সুরা তাওবা: ১০১) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) ইন্তেকালের আগে ‘সাবিকুনাল আউয়ালুন’ (প্রথম সারির মধ্যে অগ্রগামী) সাহাবিদের ব্যাপারে বলেন, “মুহাজিরদের মধ্যে ‘সাবিকুনাল আউয়ালুন’ এবং তাদের পরে তাদের সন্তানদের ব্যাপারে তোমাদের অসিয়ত করছি। যদি তোমরা তা (সম্মান ও সদ্ব্যবহার) না করো তবে তোমাদের দান ও ন্যায়পরায়ণতা গ্রহণ করা হবে না।” (জামিউল মাসানিদ ওয়াস-সুনান: ৬০৯২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাহাবিদের জীবনী থেকে সবরের শিক্ষা নেওয়ার এবং এক আল্লাহর প্রতি, দীনের ওপর অটল অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর