মানুষের জীবনে কখনো আয় কমে যায়, ঋণের বোঝা বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অভাব-অনটন ও ঋণমুক্তির জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও আমলের কথা এসেছে। পাশাপাশি হালাল উপার্জনের চেষ্টা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাও জরুরি।
ঋণমুক্তির বিশেষ দোয়া
হজরত আলী (রা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি ঋণমুক্তির উপায় জানতে চেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন এমন একজন দাস, যিনি নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে মুক্ত হওয়ার চুক্তি করেছিলেন, কিন্তু সেই অর্থ পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন।
তখন আলী (রা.) তাকে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো একটি দোয়া পড়ার পরামর্শ দেন।
দোয়াটি হলো- اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার হালাল দিয়ে আমাকে এমনভাবে যথেষ্ট করুন, যাতে হারামের প্রয়োজন না পড়ে। আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত রাখুন।
আলী (রা.) তাকে বলেন, এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন, এমনকি তার ঋণ সীর পর্বতের সমান হলেও। (জামে তিরমিজি: ৩৫৬৩)
আরও পড়ুন: ধনী হওয়ার যেসব উপায়ের কথা বলেছে কোরআন-হাদিস
দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির দোয়া
ঋণ ও অর্থকষ্ট মানুষের মনে দুশ্চিন্তা তৈরি করে। এ থেকে মুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (স.) একটি দোয়া শিখিয়েছেন। তিনি নিয়মিত এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।
দোয়াটি হলো- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা, অক্ষমতা ও অলসতা, কৃপণতা ও ভীরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের কাছে পরাভূত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ বুখারি: ৬৩৬৯)
বেশি বেশি ইস্তেগফার করা
অর্থকষ্ট থেকে মুক্তি ও রিজিকে বরকত লাভের অন্যতম আমল হলো বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। আল্লাহ তাআলা নুহ (আ.)-এর বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদীনালা সৃষ্টি করবেন।’ (সুরা নুহ: ১০-১২)
এই আয়াতগুলোতে ইস্তেগফারের সঙ্গে বৃষ্টি, সম্পদ ও নেয়ামত বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই অভাব-অনটনের সময় বেশি বেশি ইস্তেগফার করা উচিত।
আরও পড়ুন: সবসময় ইস্তেগফার করলে ১৫ নেয়ামত লাভ হয়
তাকওয়া অবলম্বন ও আল্লাহর ওপর ভরসা
রিজিকের সংকট থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাকওয়া অবলম্বন করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক: ২-৩)
তাই বিপদে পড়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর আদেশ মেনে চলতে হবে, হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকতে হবে এবং তার ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।
হালাল উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া
ইসলাম শুধু দোয়া ও ইবাদতের নির্দেশ দেয়নি, হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টাও করতে বলেছে। অর্থকষ্টে পড়লে সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ ও উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হবে এবং ঋণ থাকলে তা পরিশোধের পরিকল্পনা করতে হবে।
ঋণদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিশোধের সময় বা কিস্তি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি নতুন দক্ষতা অর্জন ও উপার্জনের সুযোগ খুঁজতে হবে।
অর্থকষ্টের সময় দোয়া, ইস্তেগফার ও তাওবার পাশাপাশি হালাল উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধরতে হবে। আল্লাহর সাহায্য কামনার পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব পালন করাও মুমিনের কর্তব্য।
তথ্যসূত্র: জামে তিরমিজি: ৩৫৬৩; সহিহ বুখারি: ৬৩৬৯; সুরা নুহ: ১০-১২; সুরা তালাক: ২-৩




