অনেক সময় রাতে রোজা রাখার নিয়ত করা হয় না। সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হয়, আজ নফল রোজা রাখা যাক। এ অবস্থায় রোজা রাখলে তা কি সহিহ হবে? সাধারণ নফল রোজার ক্ষেত্রে দিনের বেলায় নিয়ত করার সুযোগ আছে। তবে এ বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে এবং কয়েকটি শর্তও মানতে হয়।
সকালে নিয়ত করে নফল রোজা রাখা যাবে?
সাধারণ নফল রোজার জন্য আগের রাতে নিয়ত করা শর্ত নয়। সুবহে সাদিকের পরও নিয়ত করা যায়। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ (স.) তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমাদের কাছে কি কোনো খাবার আছে?’ তিনি বলেন, ‘না।’ তখন রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘তাহলে আমি রোজা রাখলাম।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৫৪)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, নফল রোজার নিয়ত দিনের বেলায়ও করা যায়। তবে শর্ত হলো, সুবহে সাদিক থেকে নিয়ত করা পর্যন্ত পানাহারসহ রোজা ভঙ্গকারী কোনো কাজ করা যাবে না।
কখন নিয়ত করতে হবে?
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, নফল রোজার নিয়ত করতে হবে শরয়ি দিনের মধ্যভাগের আগে। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে দুই ভাগ করলে যে মাঝখান পাওয়া যায়, সেটিই এর মাপকাঠি। এটি ঘড়ির হিসাবে সবসময় দুপুর ১২টা নয়। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৯৬)
আরও পড়ুন: যেসব দিনে নফল রোজা রাখতেন নবীজি
অন্যদিকে, শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.)-এর মতে, সাধারণ নফল রোজার নিয়ত দিনের যেকোনো সময় করা যায়, যদি নিয়তের আগে রোজা ভঙ্গকারী কোনো কাজ করা না হয়। (আশ-শারহুল মুমতি: ৬/৩৬০)
নির্দিষ্ট দিনের নফল রোজার ক্ষেত্রে কী হবে?
সোমবার ও বৃহস্পতিবার, আরাফার দিন বা শাওয়ালের ছয় রোজার মতো বিশেষ ফজিলতপূর্ণ দিনের রোজায় দিনের বেলায় নিয়ত করলে রোজা সহিহ হতে পারে। তবে শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এতে পূর্ণ দিনের রোজার সওয়াব পাওয়া যাবে না। কারণ, নিয়তের আগের সময়ের সওয়াব নিয়তের ভিত্তিতে গণনা হবে না। তাই এসব রোজার পূর্ণ ফজিলত অর্জন করতে সুবহে সাদিকের আগেই নিয়ত করে রোজা রাখা উচিত। (লিকাউল বাব আল-মাফতুহ: ২১/৫৫)
ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে কী হবে?
সুবহে সাদিকের পর ভুলে পানি পান বা কিছু খেয়ে ফেলার পর নফল রোজার নিয়ত করলে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ওই দিনের রোজা সহিহ হবে না। কারণ, নিয়তের আগে সুবহে সাদিক থেকে পানাহার থেকে বিরত থাকার শর্ত পূরণ হয়নি। এ ক্ষেত্রে রোজা সহিহ না হওয়ায় এর কাজাও করতে হবে না। (ফতোয়া হিন্দিয়া: ১/১৯৬; হাশিয়াতুত তাহতাবি আলাদ্দুর: ১/৪৪৯; রদ্দুল মুহতার: ২/৩৯৪, ৩৭৭)
সারকথা: সাধারণ নফল রোজার নিয়ত সকালে ঘুম থেকে উঠেও করা যায়। তবে সুবহে সাদিকের পর নিয়তের আগে পানাহারসহ রোজা ভঙ্গকারী কোনো কাজ করা যাবে না। দিনের মধ্যভাগের আগেই নিয়ত করতে হবে। আর নির্দিষ্ট দিনের পূর্ণ ফজিলত অর্জন করতে আগের রাতেই নিয়ত করে রোজা রাখা উচিত।
তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম: ১১৫৪; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৯৬; আশ-শারহুল মুমতি: ৬/৩৬০




