বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মাছরাঙা পাখি কি খাওয়া যায়?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মাছরাঙা পাখি কি খাওয়া যায়?

মাছরাঙা বাংলাদেশের পরিচিত পাখিগুলোর একটি। নদী-পুকুরের ধারে বসে ডুব দিয়ে মাছ ধরে বলে পাখিটি সহজেই চোখে পড়ে। অনেকের প্রশ্ন, মাছরাঙা পাখি খাওয়া ইসলামে হালাল কি না। কোরআন-হাদিসে মাছরাঙার নাম উল্লেখ করে সরাসরি কোনো নির্দেশনা নেই। তাই পাখি খাওয়া সম্পর্কে ইসলামের সাধারণ বিধানের আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়।

হাদিসে কী নির্দেশনা রয়েছে?

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) তীক্ষ্ণ দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী এবং নখরবিশিষ্ট শিকারি পাখি খেতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ মুসলিম: ১৯৩৪)

এই হাদিসের ভিত্তিতে ঈগল, বাজ ও চিলের মতো শিকারি পাখি খাওয়া নিষিদ্ধ বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি

হানাফি ফিকহে পাখির বিধান নির্ধারণে মোটাদাগে দুটি বিষয় দেখা হয়। প্রথমত, পাখিটি থাবা বা নখর দিয়ে শিকার করে কি না। এমন শিকারি পাখি হারাম বলে গণ্য হয়। দ্বিতীয়ত, পাখিটি প্রধানত মৃত প্রাণী বা নাপাক বস্তু খেয়ে বাঁচে কি না। শকুনের মতো এমন পাখি নিষিদ্ধ প্রকৃতির বলে আলোচিত হয়। আর যে পাখি শস্য, ফল বা পোকামাকড় খায় এবং থাবা দিয়ে শিকার করে না, যেমন কবুতর, ঘুঘু, চড়ুই, সাধারণত হালাল।

আরও পড়ুন: যেসব কারণে হালাল প্রাণীর গোশত হারাম হয়ে যায়

মাছরাঙার ক্ষেত্রে বিধান কী?

মাছরাঙা লম্বা, সুচালো ঠোঁট দিয়ে মাছ ধরে। এর শিকারের পদ্ধতিও ঈগল বা বাজপাখির মতো নয়। এটি সাধারণত জীবিত মাছ, চিংড়ি ও পোকামাকড় খেয়ে থাকে। তাই হাদিসে নিষিদ্ধ নখর দিয়ে শিকার করা পাখির শ্রেণিতে মাছরাঙাকে ফেলা যায় না। তাই সাধারণ শরয়ি মূলনীতির আলোকে মাছরাঙাকে হালাল পাখির অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচনা করা যায়।

তবে মাছরাঙা সম্পর্কে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ফতোয়া পাওয়া যায়নি। তাই কারও সন্দেহ থাকলে বা মাজহাবভিত্তিক নির্দিষ্ট বিধান জানতে চাইলে নির্ভরযোগ্য মুফতির পরামর্শ নিতে পারেন।

খাওয়ার ক্ষেত্রে শরয়ি শর্ত

কোনো পাখি খাওয়া বৈধ হলেও তা শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে জবাই বা শিকার করতে হয়। জীবিত পাখি জবাইয়ের ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলা এবং শরয়ি নিয়ম মেনে জবাই করা জরুরি। 

আরও পড়ুন: ফার্মের মুরগি কি মাকরুহ? কোরআন-হাদিস ও ফিকহ কী বলে

বাংলাদেশে আইনগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ

কোনো প্রাণী খাওয়া শরিয়তসম্মত হওয়া আর সেটি শিকার করা আইনসম্মত হওয়া এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী শিকার ও ধরার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। মাছরাঙার নির্দিষ্ট প্রজাতির ক্ষেত্রে শিকার বা ধরার অনুমতি আছে কি না, তা বন অধিদপ্তরের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বৈধ রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলাও শরিয়তের শিক্ষা।

অকারণে পাখি হত্যা নয়

ইসলামে অকারণে প্রাণী হত্যা নিরুৎসাহিত। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে একটি চড়ুই বা তার চেয়েও ছোট কিছু হত্যা করে, কেয়ামতের দিন সেটি আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবে। (সুনানে নাসায়ি)

মাছরাঙা জলাশয়ের পরিবেশের অংশ এবং মাছ ও ছোট জলজ প্রাণীর ওপর নির্ভর করে বাঁচে। তাই শুধু খাওয়ার উদ্দেশ্যে এই বন্য পাখি শিকার করার প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম: ১৯৩৪; সুনানে নাসায়ি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর