নবী শুআইব (আ.) তাঁর জাতিকে এক আল্লাহর ইবাদত করতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি ওজনে ও মাপে কম দেওয়া, মানুষের প্রাপ্য অধিকার নষ্ট করা এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন।
কিন্তু তাঁর জাতির নেতারা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। তারা শুআইব (আ.) ও তাঁর সঙ্গে ঈমান আনা লোকদের জনপদ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এমন পরিস্থিতিতে শুআইব (আ.) আল্লাহর কাছে তাঁর জাতির সঙ্গে ন্যায়সংগত ফয়সালার জন্য দোয়া করেন।
দোয়া: رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنْتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ
উচ্চারণ: রাব্বানাফতাহ বাইনানা ওয়া বাইনা কাওমিনা বিল হাক্কি, ওয়া আনতা খাইরুল ফাতিহীন।
অর্থ: ‘হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের জাতির মধ্যে ন্যায়সংগত ফয়সালা করে দিন। আর আপনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।’ (সুরা আরাফ: ৮৯)
আরও পড়ুন: ইবরাহিম (আ.)-এর যে দোয়ায় আগুন হয়েছিল শীতল ও শান্তিময়
কোন পরিস্থিতিতে এই দোয়া করেছিলেন?
শুআইব (আ.)-এর জাতির নেতারা তাঁকে ও মুমিনদের নিজেদের ধর্মে ফিরে যেতে বলে। অন্যথায় তাঁদের জনপদ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। জবাবে শুআইব (আ.) স্পষ্ট করেন, আল্লাহ তাঁদের সত্যের পথ দেখানোর পর সেই পথ ছেড়ে ফিরে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তাঁর কাছে ন্যায়সংগত ফয়সালা চান।
এর পরের আয়াতগুলোতে আল্লাহ জানান, শুআইব (আ.)-কে অস্বীকারকারী জাতির ওপর শাস্তি নেমে আসে। (সুরা আরাফ: ৯১-৯২)
এই দোয়া থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
এই দোয়া থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, অন্যায়ের শিকার হলে কিংবা সত্যের পথে বাধার মুখে পড়লে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও সঠিক ফয়সালার জন্য প্রার্থনা করা যায়।
তবে এই দোয়াকে ব্যক্তিগত বিরোধে প্রতিপক্ষের ধ্বংস কামনার দোয়া হিসেবে দেখা ঠিক নয়। শুআইব (আ.)-এর দোয়ার প্রেক্ষাপট ছিল তাঁর জাতির অবাধ্যতা ও মুমিনদের প্রতি হুমকি। এ ঘটনা আমাদের শেখায়, অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে এবং তাঁর কাছে সত্য অনুযায়ী ফয়সালা চাইতে।
তথ্যসূত্র: সুরা আরাফ: ৮৫-৯৩




