বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মন ভালো করার দোয়া

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

মন ভালো করার দোয়া

জীবনে এমন সময় আসে, যখন কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মন ভার হয়ে থাকে। দুশ্চিন্তা, দুঃখ, ভয় কিংবা নানা ভাবনা মানুষের স্বাভাবিক প্রশান্তি নষ্ট করতে পারে। ইসলাম এসব কষ্টকে অস্বীকার করে না। বরং বিপদের সময় আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে, তাঁর কাছে দোয়া করতে এবং তাঁর স্মরণে অন্তরকে প্রশান্ত করতে শেখায়।

আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ: ২৮)

মন ভার, দুশ্চিন্তা ও দুঃখের সময়ে কোরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত কয়েকটি দোয়া পড়া যেতে পারে।

দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে আশ্রয়ের দোয়া

রাসুলুল্লাহ (স.) দুশ্চিন্তা ও দুঃখসহ বিভিন্ন কষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি দোয়া করতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া দালাইদ-দাইনি, ওয়া গালাবাতির রিজাল।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে, ঋণের ভার এবং মানুষের কাছে পরাভূত হওয়া থেকে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৬৯)

এই দোয়ায় দুশ্চিন্তা ও দুঃখের পাশাপাশি জীবনের নানা দুর্বলতা ও চাপ থেকেও আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: যেসব বাক্য উচ্চারণ করলে দোয়া বিফলে যায়

ইউনুস (আ.)-এর দোয়া

বিপদের সময় পড়ার জন্য কোরআনে বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ একটি দোয়া হলো ইউনুস (আ.)-এর দোয়া। মাছের পেটে থাকা অবস্থায় তিনি আল্লাহর কাছে এভাবে প্রার্থনা করেছিলেন-

لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমিন।

অর্থ: ‘আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’

এরপর আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছি এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে উদ্ধার করেছি। আর এভাবেই আমি মুমিনদের উদ্ধার করি।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৭-৮৮)

এই দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোনো মুসলিম কোনো প্রয়োজনের সময় এ দোয়া করলে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। (জামে তিরমিজি: ৩৫০৫)

আরও পড়ুন: যে দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন 

কষ্টের সময় আশার বাণী

মন খারাপের সময় দোয়ার পাশাপাশি আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রাখাও জরুরি। আল্লাহ বলেন,

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে।’ (সুরা ইনশিরাহ: ৫-৬)

এই আয়াত মুমিনকে মনে করিয়ে দেয়, কষ্টের সময়ও আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের আশা হারানো উচিত নয়।

আল্লাহর স্মরণে অন্তরের প্রশান্তি

মন ভালো করার জন্য ইসলামের শিক্ষা শুধু কোনো একটি দোয়া পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আল্লাহর জিকির, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত এবং তাঁর ওপর ভরসাও অন্তরের প্রশান্তির মাধ্যম।

আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ: ২৮)

তাই মন ভার হলে কিছু সময় একান্তে আল্লাহর কাছে নিজের কষ্টের কথা বলা, নামাজে মনোযোগী হওয়া এবং কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা যেতে পারে।

দোয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

দোয়া করা মানে সমস্যাকে অস্বীকার করা নয়। জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়াই মুমিনের পথ।

আর মন খারাপ যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে, ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসে গুরুতর পরিবর্তন আসে কিংবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা দেখা দেয়, তাহলে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মন ভার হলে তাই হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, তাঁর কাছে দোয়া করা এবং তাঁর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত। কষ্টের সময় একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসাই হতে পারে সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

তথ্যসূত্র: সুরা রাদ: ২৮; সুরা আম্বিয়া: ৮৭-৮৮; সুরা ইনশিরাহ: ৫-৬; সহিহ বুখারি: ৬৩৬৯; জামে তিরমিজি: ৩৫০৫

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর