রাস্তায় চলা আমাদের প্রতিদিনের কাজ। একজন মুমিনের কাছে চলার পথও ভালো আচরণ ও নেক আমলের সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (স.) শিখিয়েছেন, পথে চলতে হবে বিনয় ও সতর্কতার সঙ্গে, যাতে অন্যের কষ্ট না হয়।
রাস্তার হক কী
রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিদের রাস্তায় বসা থেকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁরা বললেন, সেখানে বসা ছাড়া তাঁদের উপায় নেই। তখন তিনি বলেন, ‘যদি বসতেই হয়, তাহলে রাস্তার হক আদায় করো।’ সাহাবিরা রাস্তার হক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করা।’
অর্থাৎ রাস্তায় এমনভাবে দাঁড়ানো বা বসা উচিত নয়, যাতে অন্যের চলাচলে অসুবিধা হয়।
চোখ সামলে চলা
আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’
রাসুলুল্লাহ (স.) আলী (রা.)-কে বলেন, ‘প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য, দ্বিতীয় দৃষ্টি তোমার জন্য নয়।’
অর্থাৎ অনিচ্ছায় কোনো কিছু চোখে পড়ে গেলে দোষ নেই, তবে ইচ্ছা করে বারবার তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: পুরুষদের পর্দা কীভাবে করতে হয়?
পথের কষ্ট সরানো
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ঈমানের সত্তরের বেশি শাখা রয়েছে। এর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া।’
আরেক হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল সরিয়ে দেন, যাতে মানুষের চলাচলে কষ্ট না হয়। এই কাজের কারণে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।
তাই রাস্তায় কাঁটা, কাচ, পেরেক বা অন্যকোনো ক্ষতিকর বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে তা সরিয়ে দেওয়া নেক কাজ। একইভাবে রাস্তায় আবর্জনা ফেলা বা চলাচলের পথ আটকে রাখা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
অহংকার ছাড়া হাঁটা
আল্লাহ বলেন, ‘তুমি পৃথিবীতে দম্ভভরে চলাফেরা করো না।’ সুরা লুকমানে বলা হয়েছে, ‘তুমি মানুষের প্রতি অবজ্ঞাভরে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে চলাফেরা করো না।’
অর্থাৎ হাঁটার সময় নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা বা কাউকে তুচ্ছ করা ইসলামের শিক্ষা নয়।
আজকের দিনে এর অর্থ কী
- রাস্তার মোড়ে এমনভাবে আড্ডা না দেওয়া, যাতে পথচারীর চলাচলে সমস্যা হয়।
- গাড়ি বা রিকশা এমনভাবে না রাখা, যাতে অন্যের পথ আটকে যায়।
- পথে ময়লা বা কষ্টদায়ক কোনো বস্তু না ফেলা।
- কেউ পথ হারালে বা বিপদে পড়লে সাধ্যমতো সাহায্য করা।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ২৪৬৫; সহিহ মুসলিম: ৩৫, ১৯১৪, ২১২১; সুনানে আবু দাউদ: ২১৪৯, সুরা নূর: ৩০, সুরা ইসরা: ৩৭, সুরা লুকমান: ১৮




