দোয়া করার সময় কারও চোখে পানি আসে, আবার কেউ গভীর আবেগ ও বিনয় থাকলেও কাঁদতে পারেন না। এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে- কান্না না এলে কি দোয়ার ফজিলত কমে যায়? ইসলামের দৃষ্টিতে কান্না দোয়ার কোনো শর্ত নয়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা, বিনয় এবং তাঁর ওপর আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তাই চোখে পানি না এলেই দোয়ার মর্যাদা কমে যায়-এমন ধারণার ভিত্তি নেই।
আল্লাহভীতির প্রকাশ কান্না
আল্লাহর ভয় ও তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসায় চোখের পানি আসা একজন মুমিনের অন্তরের বিনয়ের প্রকাশ হতে পারে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।’ (সুরা ইসরা: ১০৯)
হাদিসেও আল্লাহভীতিতে ঝরা অশ্রুর বিশেষ মর্যাদার কথা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট দুটি ফোঁটা ও দুটি চিহ্নের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্যকিছু নেই। এক. আল্লাহর ভয়ে নিঃসৃত অশ্রুফোঁটা। দুই. আল্লাহর পথে (জিহাদে) নির্গত রক্তের ফোঁটা।’ (তিরমিজি: ১৬৬৯)
আরেক হাদিসে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে কাঁদা ব্যক্তিকে কেয়ামতের দিন বিশেষ মর্যাদা পাওয়া সাত শ্রেণির মানুষের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণের সময় তার দুই চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৬০; সহিহ মুসলিম: ১০৩১)
অর্থাৎ আল্লাহভীতিতে কান্না করা মর্যাদাপূর্ণ আমল। তবে এসব বর্ণনায় দোয়ার সময় কান্নাকে আবশ্যক করা হয়নি।
আরও পড়ুন: আল্লাহর ক্ষমা ও বরকতময় জীবন লাভের বিশেষ দোয়া
কান্না না এলেও দোয়া করবেন
মানুষের আবেগ ও অনুভূতি একরকম নয়। কেউ সহজেই আবেগাপ্লুত হন, আবার কেউ গভীর অনুতাপ বা আল্লাহভীতি অনুভব করেও কাঁদতে পারেন না। তাই চোখে পানি না আসায় নিজের দোয়াকে মূল্যহীন মনে করার কারণ নেই।
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)
শেষ রাতে দোয়ার বিশেষ সুযোগ
রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্বপূর্ণ সময়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?’ (সহিহ মুসলিম: ৭৫৮)
তাই শেষ রাতে ইবাদত ও দোয়ার সুযোগ পেলে চোখে পানি আসার অপেক্ষা না করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা ও তাঁর রহমত প্রার্থনা করা উচিত।
আরও পড়ুন: তাহাজ্জুদ যে নিয়মে পড়বেন
কান্না না এলে কী করবেন?
কেউ গভীরভাবে অনুতপ্ত হলেও কাঁদতে পারেন না। তাই এতে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের গুনাহ ও আল্লাহর মহত্ত্ব স্মরণ করে অন্তরকে নরম করার চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে আবেগকে এমনভাবে প্রকাশ করা উচিত নয়, যা অন্তরের অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মূল বিষয় হলো আন্তরিকতা, বিনয় এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা।
তাই চোখে পানি না এলেও মন থেকে দোয়া করা উচিত। কান্না এলে তা আল্লাহভীতি ও বিনয়ের প্রকাশ হিসেবে গ্রহণ করা এবং কান্না না এলে অন্তরকে আল্লাহর দিকে আরও মনোযোগী করার চেষ্টা করা উচিত।




