মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

নজর লাগা থেকে বাঁচতে কালো সুতা বাঁধা, ইসলামে কী আছে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

নজর লাগা থেকে বাঁচতে কালো সুতা বাঁধা, ইসলামে কী আছে

নজর লাগার আশঙ্কায় অনেকেই হাতে, পায়ে বা গলায় কালো সুতা বাঁধেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এমনটি বেশি দেখা যায়। কারও বিশ্বাস, এই সুতা বদনজর থেকে রক্ষা করে। আবার কেউ কোরআনের আয়াত পড়ে সুতায় ফুঁ দিয়ে তা ব্যবহার করেন। প্রশ্ন হলো, নজর থেকে বাঁচতে কালো সুতা ব্যবহারের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?

নজর লাগা সত্য

ইসলাম নজর লাগার বিষয়টি অস্বীকার করে না। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘বদনজর লাগা সত্য।’ (সহিহ বুখারি: ৫৭৪০)

তবে মুমিনের বিশ্বাস হলো, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো ক্ষতি সংঘটিত হতে পারে না। তাই নজর থেকে বাঁচার ক্ষেত্রেও আশ্রয় চাইতে হবে আল্লাহর কাছেই।

কালো সুতা কি সুরক্ষা দেয়?

কালো সুতা নিজস্ব ক্ষমতায় নজর বা অকল্যাণ থেকে রক্ষা করে না। কোরআন বা নির্ভরযোগ্য হাদিসে এর স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই। এরকম  কিছু বিশ্বাস করতে হলে তার পক্ষে শরিয়তসম্মত দলিল বা প্রমাণিত কারণ থাকা প্রয়োজন।

রাসুলুল্লাহ (স.) এক ব্যক্তির হাতে একটি ধাতব বালা দেখে এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন। লোকটি জানায়, এটি দুর্বলতার জন্য পরেছে। তখন নবীজি (স.) সেটি খুলে ফেলতে বলেন এবং সতর্ক করেন যে, এটি তার দুর্বলতাই বাড়াবে। (মুসনাদ আহমদ: ১৯৪৯৯)

আরও পড়ুন: স্বামী-স্ত্রীর সংসারে বদনজর, রুকইয়ার পদ্ধতি কী

এ থেকে বোঝা যায়, সুরক্ষা বা অকল্যাণ দূর করার জন্য কোনো বস্তুর ওপর নির্ভর করার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

কোরআন পড়ে ফুঁ দেওয়া আর সুতায় ফুঁ দেওয়া এক নয়

কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও মাসনুন দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং রোগ বা নজরের ক্ষেত্রে রুকইয়া করা শরিয়তসম্মত। এখানে ভরসা থাকে আল্লাহর ওপর, কোনো বস্তুতে নয়।

তবে কোরআন পড়ে সুতায় ফুঁ দিয়ে সেটি সুরক্ষার জন্য শরীরে বাঁধার বিষয়টি রুকইয়ার সঙ্গে এক নয়। এটি তাবিজ ব্যবহারের আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোরআনের আয়াত বা দোয়া লেখা তাবিজের বিধান নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের মতামত অনুসরণ করা উত্তম।

মূল বিষয় হলো- রুকইয়ায় আশ্রয় চাওয়া হয় আল্লাহর কাছে, অন্যদিকে কোনো বস্তুকে রক্ষাকারী মনে করা ইসলামি আকিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নজর থেকে বাঁচার সুন্নাহসম্মত আমল

নজর ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (স.) সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।

আরও পড়ুন: বদনজর ও রুকইয়া: ইসলামিক দৃষ্টিকোণ ও প্রতিকার

শিশুদের জন্যও তিনি দোয়া করতেন- أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ ‘আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাণীর মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং ক্ষতিকর দৃষ্টি থেকে আশ্রয় চাই।’ (সহিহ বুখারি: ৩৩৭১)

তাই নজরের আশঙ্কায় কোনো বস্তুর ওপর নির্ভর না করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং মাসনুন আমল করা উচিত।

অন্যের নেয়ামত দেখে কী করবেন?

কারও সন্তান, সৌন্দর্য, সম্পদ বা সাফল্য দেখে মুগ্ধ হলে তার জন্য বরকতের দোয়া করা উচিত। নিজের কোনো নেয়ামত নিয়েও অহংকার না করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

নজরের ভয় যেন মানুষকে কুসংস্কার বা অমূলক আতঙ্কের মধ্যে না ফেলে। একজন মুমিন সতর্ক থাকবে, দোয়া করবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে।

অতএব, কালো সুতা নিজে নজর ঠেকায়-এমন বিশ্বাসের ইসলামি ভিত্তি নেই। নজর থেকে সুরক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, কোরআন-সুন্নাহর আমল করা এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করাই মুমিনের পথ।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর