শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হুদায়বিয়ার সন্ধি থেকে কৌশলী নেতৃত্বের শিক্ষা তুলে ধরলেন আজহারী

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

হুদায়বিয়ার সন্ধি থেকে কৌশলী নেতৃত্বের শিক্ষা তুলে ধরলেন আজহারী

হুদায়বিয়ার সন্ধিকে কৌশলী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেছেন, তাৎক্ষণিক অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে হুদায়বিয়ার ঐতিহাসিক সন্ধির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

আজহারী লিখেছেন, ষষ্ঠ হিজরির জিলকদ মাসে রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিদের নিয়ে ওমরার উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে যাত্রা করেন। তাঁরা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে নয়, কোরবানির পশু সঙ্গে নিয়ে ইহরাম অবস্থায় মক্কার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু কুরাইশরা তাঁদের মক্কায় প্রবেশে বাধা দেয়।

দীর্ঘ আলোচনার পর হুদায়বিয়ায় একটি সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয়। আজহারীর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির কিছু শর্ত সাহাবিদের কাছে কঠিন ও বেদনাদায়ক মনে হয়েছিল। এর মধ্যে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নামের সঙ্গে ‘রাসুলুল্লাহ’ শব্দটি না লেখা এবং সে বছর ওমরা না করেই ফিরে যাওয়ার বিষয়টি ছিল উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন: হুদায়বিয়ার সন্ধি: যে বেদনাদায়ক ২ শর্তে লুকিয়েছিল নবীজির প্রজ্ঞা

তিনি বলেন, বাহ্যিকভাবে সন্ধির কিছু শর্ত মুসলমানদের জন্য কঠিন মনে হলেও রাসুলুল্লাহ (স.) পরিস্থিতির গভীরতর ফলাফল বিবেচনা করেছিলেন। তাৎক্ষণিক আবেগের পরিবর্তে তিনি দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ ও বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

হুদায়বিয়ার সন্ধিকে কোরআনে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও পোস্টে তুলে ধরেছেন আজহারী। তাঁর মতে, এ সন্ধির ফলে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবেশে সাময়িক বিরতি তৈরি হয় এবং ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।

শান্তিপূর্ণ এই পরিবেশ মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ তৈরি করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে যেসব মানুষের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছানো কঠিন ছিল, শান্তির সময়ে তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে ইসলামের দাওয়াত ও বিস্তারের নতুন পথ উন্মুক্ত হয়।

আরও পড়ুন: নেতৃত্ব একটি আমানত: বিজয়ী দলকে আজহারীর অভিনন্দন ও বার্তা

পোস্টে হুদায়বিয়ার ঘটনা থেকে নেতৃত্বের কয়েকটি শিক্ষাও তুলে ধরেছেন আজহারী। তাঁর মতে, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বিবেচনা করা, তাৎক্ষণিক অর্জনের পরিবর্তে বৃহত্তর কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও কৌশলে অনুকূলে কাজে লাগানো জরুরি।

আজহারী লিখেছেন, হুদায়বিয়ার সন্ধি সে সময় অনেকের কাছে পিছু হটার মতো মনে হলেও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল স্পষ্ট হয়। শান্তির সেই সময় ইসলামের দাওয়াত আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানোর নতুন পথ খুলে দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হুদায়বিয়ার ঘটনা থেকে বর্তমান সময়ের নেতৃত্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে বলে মনে করেন আজহারী। সংকটের মুহূর্তে আবেগের পরিবর্তে প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দূরদর্শিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়াই কার্যকর নেতৃত্বের পরিচয়।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর