শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়ার উত্তম সময় কখন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়ার উত্তম সময় কখন

জুমার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা খুব ফজিলতপূর্ণ আমল। তবে অনেকেরই প্রশ্ন- সুরাটি কখন পড়া উত্তম? বৃহস্পতিবার রাতে পড়লে কি জুমার দিনের ফজিলত পাওয়া যাবে, নাকি শুক্রবার দিনের বেলায় পড়তে হবে? আবার শুক্রবার মাগরিবের পর পড়লে কি সেই বিশেষ ফজিলত পাওয়া যাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে জুমার দিনের সময়সীমা ও এ আমলের ফজিলত সম্পর্কে জানা জরুরি।

জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়ার ফজিলত

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমা হতে আগামী জুমা পর্যন্ত চমকাতে থাকবে।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম: ৩৩৯২, মেশকাতুল মাসাবিহ: ২১৭৫)

হাদিসটির সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও একদল আলেম এটিকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন এবং জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতকে ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জুমার দিন কখন থেকে শুরু?

ইসলামি হিসাবে রাত দিনটির আগে আসে। তাই বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকেই জুমার রাত শুরু হয় এবং শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত জুমার সময় থাকে। এ কারণে অনেক আলেম বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে শুক্রবার মাগরিবের আগ পর্যন্ত সুরা কাহাফ পড়ার সুযোগের কথা বলেছেন।

অর্থাৎ, শুক্রবার সকাল বা দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে-এমন নয়। কেউ চাইলে বৃহস্পতিবার মাগরিবের পরই সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন: জুমার দিনে যে আমলের ফজিলত সবচেয়ে বেশি

তাহলে উত্তম সময় কোনটি?

এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে ‘এই সময়েই সুরা কাহাফ পড়তে হবে’-এমন নির্দেশ পাওয়া যায় না। তাই বৃহস্পতিবার রাত বা শুক্রবার দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়কে একমাত্র উত্তম সময় হিসেবে নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

তবে আমলটি যেন নিশ্চিতভাবে জুমার সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, সে জন্য শুক্রবার দিনের শুরুতেই, বিশেষ করে ফজরের পর বা দিনের সুবিধাজনক সময়ে সুরাটি পড়ে নেওয়া উত্তম ও অধিক সতর্কতার বিষয়। এতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দিনের সময় নিয়ে মতভেদের মধ্যেও আমলটি নিশ্চিতভাবে আদায় হয়ে যায়।

আর যার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে পড়া সহজ, তিনি তখনও পড়ে নিতে পারেন। মূল লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুরাটি তেলাওয়াত করা।

একসঙ্গে পুরো সুরা পড়া কঠিন হলে?

সুরা কাহাফে ১১০টি আয়াত। অনেকের পক্ষে এক বসায় পুরো সুরাটি পড়া কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দিনের সুবিধাজনক সময়ে কয়েক ভাগে ভাগ করে পড়া যেতে পারে।

তবে সুযোগ থাকলে এক বসায় পুরো সুরাটি পড়ে নেওয়া সহজ ও স্বস্তিদায়ক। এতে দিনের ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত আমলটি অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে না।

শুক্রবার মাগরিবের পর পড়লে কী হবে?

শুক্রবার সূর্যাস্তের পর জুমার দিনের সময় শেষ হয়ে যায়। তাই মাগরিবের পর সুরা কাহাফ পড়লে কোরআন তেলাওয়াতের সাধারণ সওয়াব অবশ্যই পাওয়া যাবে। তবে সেটিকে জুমার দিনের বিশেষ ফজিলতের সময়ের মধ্যে পড়া বলা হবে না।

এ কারণে শুক্রবার মাগরিবের আগেই সুরা কাহাফ পড়ে নেওয়াই নিরাপদ।

আরও পড়ুন: জুমার দিনের এক ঘণ্টা: যে সময়ের দোয়া ফেরত যায় না

পড়তে ভুলে গেলে কী করবেন?

কেউ যদি শুক্রবার দিনের ব্যস্ততায় সুরা কাহাফ পড়তে ভুলে যান এবং মাগরিবের আগে মনে পড়ে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সুরাটি পড়ে নেওয়া উচিত। তখনও জুমার সময় শেষ হয়নি।

আর যদি শুক্রবার মাগরিবের পর মনে পড়ে, তাহলে সুরাটি পড়া ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণ কোরআন তেলাওয়াতের নিয়তে পড়তে পারেন। তবে এটিকে ওই জুমার দিনের বিশেষ আমলের কাজা বলা যাবে না।

এখানে মনে রাখা জরুরি, সুরা কাহাফ তেলাওয়াত ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই কোনো সপ্তাহে তা ছুটে গেলে নির্ধারিত কোনো কাজা বা কাফফারার বিধান নেই।

প্রথম ১০ আয়াতের বিশেষ ফজিলত

সুরা কাহাফের ফজিলত শুধু জুমার দিনের তেলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার জন্য এর প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার বিশেষ ফজিলত সহিহ হাদিসে এসেছে।

হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’ (সহিহ মুসলিম: ৮০৯)

অন্য বর্ণনায় সুরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের কথাও এসেছে। (মুসনাদে আহমাদ: ৪৪৬/৬)

অতএব, জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়ার পাশাপাশি প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ ও নিয়মিত চর্চা করা গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।

শুধু তেলাওয়াত নয়, শিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ

সুরা কাহাফের মধ্যে রয়েছে ঈমান, সম্পদ, জ্ঞান ও ক্ষমতার নানা পরীক্ষা এবং এসব পরীক্ষায় মুমিনের করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

আসহাবে কাহাফের ঘটনায় ঈমান রক্ষার পরীক্ষা, দুই বাগানের মালিকের ঘটনায় সম্পদের পরীক্ষা, মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঘটনায় জ্ঞানের পরীক্ষা এবং জুলকারনাইনের ঘটনায় ক্ষমতার পরীক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।

তাই সুরাটি তেলাওয়াতের পাশাপাশি এর অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। এতে জুমার দিনের এই আমলটি শুধু তেলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, জীবনের বিভিন্ন পরীক্ষায় কোরআনের শিক্ষা কাজে লাগানোর সুযোগও তৈরি হবে।

নিয়মিত আমল করার সহজ উপায়

জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে বৃহস্পতিবার মাগরিবের পরই সুরাটি পড়ার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। কেউ চাইলে শুক্রবার ফজরের পর নির্দিষ্ট সময়ও ঠিক করে নিতে পারেন।

মোবাইলে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা এবং একসঙ্গে পড়া সম্ভব না হলে কয়েক ভাগে ভাগ করে নেওয়াও কাজে আসতে পারে। এভাবে নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করলে ব্যস্ততার মধ্যেও আমলটি নিয়মিত রাখা সহজ হয়।

সূত্র: মুস্তাদরাকে হাকিম: ৩৩৯২; মেশকাতুল মাসাবিহ: ২১৭৫; সহিহ মুসলিম: ৮০৯; মুসনাদে আহমাদ: ৪৪৬/৬

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর