শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নিজের প্রশংসা, ইসলাম কী বলে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

নিজের প্রশংসা, ইসলাম কী বলে
প্রতীকী ছবি: এআই

নিজের ভালো কাজ, যোগ্যতা কিংবা সাফল্যের কথা বলতে কারও কারও ভালো লাগে। কেউ নিজের জ্ঞান নিয়ে গর্ব করেন, কেউ সম্পদ বা সামাজিক অবস্থান নিয়ে। আবার কেউ নিজের নেক আমলের কথা অন্যদের বলে বেড়ান। নিজের সম্পর্কে ভালো কথা বলা সবসময় দোষের নয়। তবে নিজেকে বড় করে দেখানোর জন্য নিজের গুণের কথা বলা ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় নয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।’ (সুরা নাজম: ৩২)

মানুষ নিজের কাজ সম্পর্কে যতটুকু জানে, তার নিয়ত ও অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। তাই নিজেকে নিষ্পাপ বা অন্যের চেয়ে উত্তম মনে করা থেকে সতর্ক থাকা উচিত।

প্রয়োজন হলে নিজের যোগ্যতা বলা যায়

নিজের যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার কথা বলা নিষিদ্ধ নয়। কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য নিজের সক্ষমতা জানানো প্রয়োজন হতে পারে। হজরত ইউসুফ (আ.) রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমাকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্ব দিন, নিশ্চয় আমি যথাযথ হেফাজতকারী, সুবিজ্ঞ।’ (সুরা ইউসুফ: ৫৫)

আরও পড়ুন: মানুষ পরিচয়ের জন্য যেসব গুণ অপরিহার্য

এখানে নিজের গুণ প্রচার করা উদ্দেশ্য ছিল না। দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার কথা জানানোই ছিল উদ্দেশ্য। তাই প্রয়োজনের কথা বলা আর আত্মপ্রশংসা করা এক বিষয় নয়।

অহংকারের দিকে যেন না যায়

নিজের প্রশংসার অভ্যাস কখনো কখনো মানুষকে নিজের ভুল-ত্রুটি স্বীকার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। অন্যকে ছোট করে দেখার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছ করা।’ (সহিহ মুসলিম: ৯১)

এ ক্ষেত্রে কথার চেয়ে উদ্দেশ্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের যোগ্যতা জানানো যদি প্রয়োজনের মধ্যে থাকে, তাতে দোষ নেই। কিন্তু নিজেকে বড় প্রমাণ করা বা অন্যকে হেয় করার জন্য তা ব্যবহার করা ঠিক নয়।

নেক আমলের কথা বলার ক্ষেত্রেও সতর্কতা

কেউ নিজের জীবনের কোনো পরিবর্তনের কথা বলে অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহ দিতে পারেন। তবে সেখানেও আত্মপ্রচারের সুযোগ আছে কি না, তা খেয়াল রাখা দরকার।

আরও পড়ুন: নেক আমল নষ্টকারী ৬ গুনাহ থেকে সাবধান

বিশেষ করে দান-সদকা ও নফল ইবাদতের মতো আমলের ক্ষেত্রে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে সতর্ক থাকা জরুরি। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের তো এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।’ (সুরা বাইয়িনা: ৫)

তাই ভালো কাজের কথা বলার প্রয়োজন হলে নিজের উদ্দেশ্যটিও খেয়াল রাখা জরুরি।

কাজের মধ্যেই গুণের প্রকাশ

যোগ্যতা থাকলে তা কাজের মধ্যেই প্রকাশ পায়। ভালো চরিত্র থাকলে আচরণেই তার পরিচয় পাওয়া যায়। এজন্য নিজের গুণের কথা বারবার বলে বেড়ানোর প্রয়োজন নেই।

নিজের ভালো কাজের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া করা, নিজের ভুল-ত্রুটি মনে রাখা এবং অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখাই সুন্দর স্বভাব। মানুষের প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াই একজন মুমিনের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর