রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জন্মের সংবাদ পেয়ে তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব নাতিকে দেখতে আসেন। পরে তাঁকে কোলে নিয়ে কাবাঘরে প্রবেশ করেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন বলে সীরাতের বর্ণনায় এসেছে। নবজাতককে দেখে তাঁর একটি বিশেষ মন্তব্যের কথাও প্রাচীন গ্রন্থে পাওয়া যায়।
জন্মের সংবাদ পেয়ে নাতিকে দেখতে এলেন
ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (স.) জন্মগ্রহণ করলে তাঁর মা হজরত আমিনা (রা.) আবদুল মুত্তালিবকে খবর পাঠান। সংবাদ পেয়ে তিনি নাতিকে দেখতে আসেন। এ সময় আমিনা (রা.) গর্ভকালীন সময়ে দেখা স্বপ্ন এবং নবজাতক সম্পর্কে পাওয়া নির্দেশনার কথা তাঁকে জানান।
এরপর আবদুল মুত্তালিব শিশুটিকে কোলে তুলে কাবাঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং নবজাতকের জন্য দোয়া করেন। (সীরাতুন নবী: ১/১৫৭)
‘আমার এই নাতির বিশেষ মর্যাদা হবে’
নবজাতককে দেখে আবদুল মুত্তালিবের একটি বক্তব্যের বর্ণনাও পাওয়া যায়। হজরত আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (স.) খতনাকৃত ও নাড়ি কর্তিত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি দেখে আবদুল মুত্তালিব বলেন-
‘আমার এই নাতির অবশ্যই বিশেষ মর্যাদা হবে।’ (لَيَكُونَنَّ لِابْنِي هَذَا شَأْنٌ)
আরও পড়ুন: নবীজির শুভাগমনে সৃষ্টিকুলের আনন্দ
ইবনে সাদ তাঁর আত-তাবাকাতুল কুবরা, আবু নুয়াইম এবং বায়হাকি তাঁদের দালাইলুন নবুওয়াহ গ্রন্থে এ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। তবে এর সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের আলোচনা রয়েছে। ইবনে কাসিরও বর্ণনাটি উল্লেখ করে এর সহিহ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের কথা জানিয়েছেন। ফলে এটিকে সহিহ হাদিসের নিশ্চিত বক্তব্য না বলে সীরাতের বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করাই সতর্ক পদ্ধতি।
সপ্তম দিনে রাখলেন ‘মুহাম্মদ’ নাম
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নামকরণের ঘটনাটিও আবদুল মুত্তালিবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সীরাতের বর্ণনায় এসেছে। এক বর্ণনা অনুযায়ী, জন্মের সপ্তম দিনে তিনি নাতির আকিকা করেন এবং কুরাইশদের দাওয়াত দেন। ওই অনুষ্ঠানে নবজাতকের নাম রাখেন ‘মুহাম্মদ’।
কুরাইশরা নামটি নিয়ে প্রশ্ন করলে আবদুল মুত্তালিব জানান, তিনি চেয়েছিলেন তাঁর নাতির প্রশংসা আসমান ও জমিনে ছড়িয়ে পড়ুক। এ বর্ণনা ফাতহুল বারি ও সিরাতুল মুস্তফাসহ বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। (ফাতহুল বারি: ৭/১২৪; সিরাতুল মুস্তফা: ১/৬৩)
আরও পড়ুন: ১২ রবিউল আউয়াল কি রোজা রাখা সুন্নত?
নাতির প্রতি ছিল গভীর মমতা
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জন্মের পর আবদুল মুত্তালিব তাঁকে গভীর মমতায় লালন-পালন করেন। মুসনাদে আবি ইয়ালায় হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে, একবার তিনি মুহাম্মদ (স.)-কে হারানো উট খুঁজতে পাঠিয়েছিলেন। নাতির ফিরতে দেরি হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে নাতি ফিরে এলে তিনি তাঁকে আর নিজের চোখের আড়াল করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেন।
নবীজি (স.)-এর শৈশবের এই বর্ণনা তাঁর প্রতি দাদার বিশেষ মমতার পরিচয় দেয়।
সারকথা, নবজাতক মুহাম্মদ (স.)-কে দেখে আবদুল মুত্তালিবের আনন্দ, তাঁকে কোলে নিয়ে কাবাঘরে যাওয়া এবং তাঁর জন্য দোয়া করার কথা সীরাতের বর্ণনায় এসেছে। তাঁর মুখে ‘আমার এই নাতির অবশ্যই বিশেষ মর্যাদা হবে’ এমন একটি বক্তব্যও বর্ণিত হয়েছে। তবে এর সনদ নিয়ে আলোচনা থাকায় এটিকে সহিহ হাদিসের নিশ্চিত উক্তি হিসেবে না দেখে সীরাতের বর্ণনা হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত।



