শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কোরআন প্রতিযোগিতায় খ্রিস্টান যুবক, জিতলেন ফ্রি ওমরাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

কোরআন প্রতিযোগিতায় খ্রিস্টান যুবক, জিতলেন ফ্রি ওমরাহ

মিসরে কোরআন বিষয়ক একটি ইসলামী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ফ্রি ওমরাহ পুরস্কার জিতেছেন মিনা নামে এক খ্রিস্টান যুবক।

ভিন্ন ধর্মের হয়েও কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতেছেন নিজের মুসলিম প্রতিবেশী উম আলী বা মোনার ওমরাহ পালনের ইচ্ছা পূরণের জন্য। খবর গালফ নিউজের। 

কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল নিজের বদলে মুসলিম প্রতিবেশী উম আলীর দীর্ঘদিনের ওমরাহ পালনের ইচ্ছা পূরণে পুরস্কারটি তাকে দেওয়া।

মুসলিম প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের ওমরাহ পালনের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতেই তিনি কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

মিনা জানান, মিসরের ইসলামী আলোচক ড. আইমান আবু ওমর পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি লাইভ অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ফ্রিতে ওমরাহ পালনের সুযোগ পেতে তার প্রতিবেশীও ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। প্রতিবেশীর স্বপ্নের বিষয়টি জানার পর তিনি নিজেও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, আমি খ্রিস্টান। কিন্তু আমি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম আমার প্রতিবেশীকে ওমরাহর পুরস্কারটি দিয়ে সহায়তার জন্য। প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের শুরুতেই তিনি উম আলীকে জানিয়েছিলেন, তিনিও তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। আর উম আলী যদি পুরস্কারটি জিততে না পারেন, তাহলে অন্তত তার হয়ে তিনি পুরস্কারটি জেতার করবেন।

এরপর প্রতিযোগিতার পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা বাড়াতে তিনি ৫০ থেকে ৬০ বারেরও বেশি সঠিক উত্তর জমা দেন। তার কৌশল কাজে আসে এবং মিনা বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ জিতে নেন। 

উম আলী বলেন, প্রতিযোগিতায় মিনার অংশগ্রহণ সবার নজর কেড়েছিল। পরে যখন তিনি জানতে পারেন যে তার জন্য ওমরাহ পালনের সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে, তখন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি জানান, ওমরাহ পালন করা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। শারীরিকভাবে ভ্রমণ ও স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করার সক্ষমতা থাকা অবস্থায় এই পবিত্র সফরের সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন।

মিনা জানান, সুখবরটি দেওয়ার পর তিনি দেখেন, উম আলী চোখের পানি মুছছেন। মিনা বলেন, আমি জানতাম না, ওমরাহ এতটা আনন্দের কারণ হতে পারে।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই পরিবার একে অপরের প্রতিবেশী। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক সাধারণ প্রতিবেশীর সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। 

মিনা খ্রিস্টান হলেও উম আলীকে নিজের বড় বোনের মতো মনে করেন। তার মা-বাবার প্রতিও নিজের পরিবারের সদস্যদের মতোই সম্মান ও ভালোবাসা দেখান।

ঘটনাটি মিসরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। 

মুসলিম ও খ্রিস্টান প্রতিবেশীর মধ্যে কতটা ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, মিনার এই উদ্যোগ তার একটি উদাহরণ।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর