বড়লোক হতে কে না চায়? অর্থ-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি ও স্বচ্ছন্দ জীবন এসবের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণ রয়েছে। তবে ইসলামে প্রকৃত ধনীর ধারণা কিছুটা ভিন্ন। রাসুলুল্লাহ (স.) জানিয়েছেন, আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকতে পারলেই মানুষ সবচেয়ে ধনী হতে পারে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিদের বললেন, ‘কে আমার কাছ থেকে কয়েকটি কথা গ্রহণ করবে? সে নিজে এগুলো আমল করবে অথবা এমন কাউকে শেখাবে, যে তা আমল করবে?’
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, ‘আমি, হে আল্লাহর রাসুল।’ এরপর রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁকে পাঁচটি বিষয় শিক্ষা দেন। এর মধ্যে তাঁর একটি কথা ছিল- ‘তোমার ভাগ্যে আল্লাহ তাআলা যা নির্ধারিত করে রেখেছেন তাতে খুশি থাকলে লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা স্বনির্ভর গণ্য হবে।’ (জামে তিরমিজি: ২৩০৫)
মানুষের অতৃপ্ত স্বভাব
মানুষের স্বভাবই এমন, সে যত পায় ততই বেশি চায়। সম্পদ পেয়েও কেন মানুষ নিজেকে ধনী মনে করতে পারে না, তা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর একটি হাদিসে স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘আদম সন্তানকে যদি স্বর্ণের একটি উপত্যকা দেওয়া হয়, তবুও সে দ্বিতীয় আরেকটি উপত্যকা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৩৯)
অর্থাৎ, অন্তরে তৃপ্তি না থাকলে অনেক সম্পদ থাকলেও মানুষের চাহিদা শেষ হয় না।
আরও পড়ুন: নফসকে নিয়ন্ত্রণের ৪ দোয়া
তাহলে কি ধনী হওয়ার চেষ্টা করা যাবে না?
হাদিসের শিক্ষা এমন নয় যে মানুষ সম্পদ অর্জনের চেষ্টা করবে না। হালাল পথে উপার্জন করা এবং নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন পূরণ করা বৈধ। তবে সম্পদের পরিমাণই প্রকৃত ধন হওয়ার মাপকাঠি নয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘প্রকৃত ধন-সম্পদ বেশি সম্পদ থাকার নাম নয়। প্রকৃত ধন হলো অন্তরের প্রাচুর্য।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৪৬)
অনেক সম্পদ থাকার পরও কেউ অশান্তিতে থাকতে পারে। আবার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও কেউ তৃপ্ত ও শান্তিতে থাকতে পারে। তাই সম্পদের পাশাপাশি অন্তরের তৃপ্তিও গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে অন্তরে তৃপ্তি আসবে?
এর একটি সহজ উপায়ও রাসুলুল্লাহ (স.) জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা তোমাদের চেয়ে নিম্নবস্থাসম্পন্ন লোকের দিকে তাকাও, তোমাদের চেয়ে উন্নতবস্থাসম্পন্ন লোকের দিকে তাকাও না। এতে তোমাদের ওপর আল্লাহর যে নেয়ামত রয়েছে, তাকে তুচ্ছ মনে হবে না।’ (সহিহ মুসলিম: ২৯৬৩)
আরও পড়ুন: অন্তরে প্রশান্তির জন্য ছোট ছোট জিকির
সবসময় নিজের চেয়ে বেশি সম্পদশালী মানুষের দিকে তাকালে নিজের প্রাপ্তিও কম মনে হতে পারে। এতে অসন্তুষ্টি বাড়ে। নিজের চেয়ে কম সুবিধায় থাকা মানুষের দিকে তাকালে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলোও বেশি করে উপলব্ধি করা যায়।
প্রকৃত সচ্ছলতা কোথায়?
জীবনে সচ্ছলতা ও হালাল উপার্জন অবশ্যই কাম্য। তবে সম্পদ যেন মানুষের চাহিদা আরও বাড়িয়ে না দেয়। আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকা জরুরি।
তাই বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন থাকলে হালাল পথে উপার্জনের পাশাপাশি অন্তরের তৃপ্তির দিকেও নজর দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শিক্ষা হলো, আল্লাহর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট থাকাই প্রকৃত সচ্ছলতার অন্যতম পথ।
তথ্যসূত্র: জামে তিরমিজি: ২৩০৫, সহিহ বুখারি: ৬৪৩৯, ৬৪৪৬, সহিহ মুসলিম: ২৯৬৩




