বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

রাতে নখ কাটলে কী হয়? ইসলাম কী বলে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

রাতে নখ কাটলে কী হয়? ইসলাম কী বলে

রাতে নখ কাটা নিয়ে সমাজে নানা ধরনের কথা প্রচলিত আছে। কেউ বলেন, রাতে নখ কাটলে রিজিক কমে যায়। কেউ বলেন, এতে অমঙ্গল হয়। আবার কেউ এটিকে ধর্মীয় বিধান বলেও মনে করেন। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ কি এ কথা সমর্থন করে?

সংক্ষেপে উত্তর হলো- না। কোরআন-সুন্নাহয় রাতে নখ কাটতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। রাতে নখ কাটলে রিজিক কমে যায়, অমঙ্গল হয় বা গুনাহ হয়-এমন কোনো সহিহ দলিল পাওয়া যায় না।

নখ কাটা ফিতরাতের সুন্নত

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: খতনা করা, নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা এবং বগলের পশম তুলে ফেলা।’ (সহিহ বুখারি: ৫৮৯১)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, নখ কাটা পরিচ্ছন্নতার অংশ এবং ফিতরাতের সুন্নত। তবে দিনে নাকি রাতে নখ কাটতে হবে, সে বিষয়ে শরিয়তে কোনো বিধান নেই।

আরও পড়ুন: টয়লেটে সুগন্ধি রাখলে কি জ্বিনের কবল থেকে বাঁচা যায়?

রাতে নখ কাটায় কোনো নিষেধ আছে?

কোরআন, সহিহ হাদিস কিংবা নির্ভরযোগ্য ফিকহের গ্রন্থে রাতে নখ কাটাকে নিষিদ্ধ বা মাকরুহ বলা হয়নি। তাই প্রয়োজন হলে রাতেও নখ কাটা যাবে।

রাতে নখ কাটলে রিজিক কমে যায়, অমঙ্গল হয় বা কোনো ক্ষতি হয়-এ ধরনের বিশ্বাসেরও কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।

কিছু আলেমের মতে, আগে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছিল না। অন্ধকারে ধারালো বস্তু ব্যবহার করলে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এ কারণে অনেক এলাকায় রাতে নখ কাটতে নিরুৎসাহিত করা হতো। পরে অনেকেই এটিকে ধর্মীয় বিধান মনে করতে শুরু করেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহয় কোনো দলিল নেই।

নাপাকি অবস্থায় নখ কাটা যাবে?

অনেকে মনে করেন, গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় বা ঋতুস্রাব চলাকালে নখ কাটা যায় না। এ ধারণারও কোনো সহিহ ভিত্তি নেই।

গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় বা ঋতুস্রাবের সময় নখ কাটা বৈধ। এ অবস্থায় নখ বা চুল কাটলে গুনাহ হয় কিংবা কেয়ামতের দিন তা নাপাক অবস্থায় উঠবে-এমন কোনো সহিহ দলিল নেই।

আরও পড়ুন: চুল বিক্রি করা কি জায়েজ?

কাটা নখ কোথায় ফেলবেন?

কাটা নখ যত্রতত্র ফেলে মানুষকে কষ্ট দেওয়া বা পরিবেশ নোংরা করা উচিত নয়। পরিচ্ছন্নভাবে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দেওয়াই যথেষ্ট।

কিছু আলেম নখ মাটিতে পুঁতে রাখাকে শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। এ বিষয়ে কোনো সহিহ হাদিসও নেই।

কত দিনের মধ্যে নখ কাটা উচিত?

হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘আমাদের জন্য গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা, বগলের পশম তুলে ফেলা এবং নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে চল্লিশ দিনের বেশি সময় অতিক্রম না করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৮)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ৪০ দিনের বেশি নখ না কেটে রাখা উচিত নয়।

ফকিহদের অনেকে প্রতি সপ্তাহে একবার, বিশেষ করে জুমার দিনে নখ কাটাকে মোস্তাহাব বলেছেন। তবে এটি সুপারিশকৃত আমল, বাধ্যতামূলক নয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে করণীয়

ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই নিয়মিত নখ কাটা এবং ফিতরাতের সুন্নতগুলোর প্রতি যত্নবান থাকা একজন মুসলিমের দায়িত্ব।

অন্যদিকে, রাতে নখ কাটলে রিজিক কমে যায়, অমঙ্গল হয় বা গুনাহ হয়—এ ধরনের প্রচলিত বিশ্বাসের কোনো সহিহ ভিত্তি নেই। তাই ধর্মীয় বিষয়ে লোকমুখে প্রচলিত কথার পরিবর্তে কোরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করাই নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৫৮৯১; সহিহ মুসলিম: ২৫৭, ২৫৮

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর