বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

আজানের জবাব না দিলে কি গুনাহ হবে? 

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

আজানের জবাব না দিলে কি গুনাহ হবে? 

মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে এলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে তার জবাব দেন। আবার অনেকে ব্যস্ততা বা অন্য কারণে দিতে পারেন না। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে- আজানের জবাব না দিলে কি গুনাহ হবে? কেউ আবার মনে করেন, আজানের সময় কথা বললে বা জবাব না দিলে দীর্ঘদিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ইসলাম এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দিয়েছে?

কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জানা যায়, আজানের জবাব দেওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সুন্নত। তবে এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। জবাব না দিলে গুনাহ হবে এমন কোনো সহিহ দলিল নেই।

আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে, তোমরাও তার অনুরূপ বলো।’ (সহিহ বুখারি: ৬১১; সহিহ মুসলিম: ৩৮৫)

এ হাদিসের ভিত্তিতে আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে আজানের জবাব দেওয়া মোস্তাহাব। প্রখ্যাত ফকিহ ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন, ‘আজানের জবাব মোস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে আহলুল ইলমের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমি জানি না।’ (আল মুগনি: ১/৫৯১)

জবাব না দিলে কি গুনাহ হবে?

আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত। তবে এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই কেউ জবাব না দিলে একটি ফজিলতপূর্ণ সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন, কিন্তু শুধু এ কারণে গুনাহগার হবেন না।

এ ছাড়া আজানের জবাব না দেওয়ার সঙ্গে সালাতের শুদ্ধতারও কোনো সম্পর্ক নেই। সালাতের শর্ত ও রুকন যথাযথভাবে আদায় করা হলে আজানের জবাব না দিলেও সালাত সহিহ হবে।

আরও পড়ুন: টানা ১২ বছর আজান দিলে কী হয়?

আজানের সময় কথা বলা যাবে?

আজানের সময় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বন্ধ রেখে মনোযোগ দিয়ে আজান শোনা এবং তার জবাব দেওয়া উত্তম। তবে জরুরি প্রয়োজন হলে কথা বলা বা প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ায় কোনো অসুবিধা নেই।

যেমন চিকিৎসাসেবা, জরুরি দায়িত্ব বা এমন কোনো কাজ, যা তখনই সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এসব কারণে কাজ চালিয়ে গেলে গুনাহ হবে না।

প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

সমাজে এমন ধারণাও প্রচলিত আছে যে, আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায় বা আজানের জবাব না দিলে ঈমান নিয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। নির্ভরযোগ্য আলেমরা এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

তাই ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত কথার চেয়ে কোরআন, সহিহ হাদিস ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করাই নিরাপদ।

আরও পড়ুন: মিটিং-সমাবেশ চলাকালে আজান হলে করণীয়

আজানের জবাব কীভাবে দেবেন?

সাধারণভাবে মুয়াজ্জিন যে বাক্যগুলো বলেন, সেগুলোর অনুরূপই বলতে হয়।

তবে ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’-এর জবাবে বলতে হবে, ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ (সহিহ মুসলিম: ৩৮৫)

আজানের জবাব শেষ হলে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা এবং তাঁর জন্য ‘ওসিলা’র দোয়া পড়া সুন্নত। এ আমলের জন্য হাদিসে বিশেষ ফজিলতের সুসংবাদ এসেছে। (সহিহ বুখারি: ৬১৪, সহিহ মুসলিম: ৩৮৪)

মোটকথা, আজানের জবাব দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। তাই সুযোগ থাকলে মনোযোগ দিয়ে আজান শোনা, জবাব দেওয়া এবং সালাতের প্রস্তুতি নেওয়া একজন মুসলিমের জন্য উত্তম। তবে কোনো কারণে বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যস্ত থাকায় আজানের জবাব দিতে না পারলে গুনাহ হবে না।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৬১১, ৬১৪; সহিহ মুসলিম: ৩৮৪, ৩৮৫; আল মুগনি: ১/৫৯১; রদ্দুল মুহতার: ১/৩৯৯

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর