রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হেযবুত তওহীদের মতাদর্শ: ইসলামি গবেষকদের মূল্যায়ন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

হেযবুত তওহীদের মতাদর্শ: ইসলামি গবেষকদের মূল্যায়ন

বাংলাদেশে সক্রিয় ধর্মীয় সংগঠন হেযবুত তওহীদের আকীদা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও মতাদর্শ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। সংগঠনটি নিজেদের ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করা একটি ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন হিসেবে পরিচয় দিলেও ইসলামি গবেষকদের বড় অংশ সংগঠনটির বিভিন্ন বিশ্বাস, ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও প্রচারিত বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

হেযবুত তওহীদের মতাদর্শ নিয়ে আলোচনায় মূলত ইসলামের ব্যাখ্যা, তাওহীদের ধারণা, মৌলিক ইবাদতের অবস্থান, সুন্নাহর গুরুত্ব, হাদিসের ব্যবহার এবং মুসলিম সমাজ সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। সংগঠনটির নিজস্ব প্রকাশনা ও ইসলামি গবেষকদের বিশ্লেষণের আলোকে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হলো।

প্রতিষ্ঠা ও পটভূমি

হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী (১৯২৫–২০১২)। তিনি পেশায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা ও মতাদর্শের উৎস নিয়ে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, বায়াজীদ খান পন্নী ‘আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা’ গ্রন্থে আরবি ভাষা এবং কোরআন-হাদিসের জ্ঞানের ক্ষেত্রে নিজেকে ‘নিরক্ষর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি একসময় এনায়েতুল্লাহ খান মাশরেকীর ‘খাকসার’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়ায় হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা করেন।

হেযবুত তওহীদ নিজেদের ‘সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন’ হিসেবে উপস্থাপন করে। সংগঠনটির দাবি, তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠা, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করছে।

ধর্ম সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক

হেযবুত তওহীদের মতাদর্শের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ধর্ম সম্পর্কে তাদের ব্যাখ্যা।

সংগঠনটির কিছু প্রকাশনায় বলা হয়েছে, স্রষ্টাপ্রদত্ত সব ধর্মই সত্য এবং মানুষ যেকোনো একটি ধর্ম অনুসরণ করেও মুক্তি লাভ করতে পারে। ‘মহাসত্যের আহ্বান’ এবং ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ঐক্যের আহ্বান’ গ্রন্থে এ ধরনের বক্তব্য রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা অনুযায়ী নবী মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনের পর ইসলামই আল্লাহর মনোনীত সর্বশেষ দ্বীন। তাঁদের মতে, অন্য ধর্ম অনুসরণের মাধ্যমেও মুক্তি লাভের ধারণা কোরআনের প্রচলিত ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে তাঁরা সুরা আলে ইমরানের ১৯ ও ৮৫ নম্বর আয়াতকে দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন: হেযবুত তওহীদ মুসলমানদের ঈমানহারা করছে: বাবুনগরী

ইসলাম বিকৃত হওয়ার দাবি

হেযবুত তওহীদের আলোচিত বক্তব্যগুলোর মধ্যে একটি হলো, বর্তমান প্রচলিত ইসলাম রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামের প্রকৃত রূপ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

বায়াজীদ খান পন্নীর ‘এ ইসলাম ইসলামই নয়’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ইসলাম এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যে তা রাসুলের আনা ইসলামের বিপরীতমুখী হয়ে গেছে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, মুসলিম সমাজে ভুল, দুর্বলতা বা বিচ্যুতি থাকতে পারে। তবে এর অর্থ ইসলাম নিজেই পরিবর্তিত বা বিকৃত হয়ে গেছে—এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, কোরআনে দ্বীন সংরক্ষণের ঘোষণা রয়েছে। তাই ইসলামকে সামগ্রিকভাবে বিকৃত হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সাধারণ মুসলমানদের বিষয়ে অবস্থান

হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন প্রকাশনায় প্রচলিত মুসলিম সমাজ সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

‘মহাসত্যের আহ্বান’ গ্রন্থের বরাতে বলা হয়েছে, প্রচলিত ধারার মুসলমানদের সম্পর্কে ‘বেঈমান অর্থাৎ কাফের, মোশরেক’ এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ‘ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা’ গ্রন্থেও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে কঠোর মন্তব্যের বিষয়টি গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, কোনো মুসলমানকে ঈমানের বাইরে ঘোষণা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাঁদের মতে, সুস্পষ্ট শরয়ি দলিল ছাড়া ব্যাপকভাবে মুসলমানদের কাফের বা ঈমানচ্যুত বলা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের ব্যাখ্যা

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ইসলামি গবেষকদের অন্যতম আপত্তি হলো- সংগঠনটি নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো মৌলিক ইবাদতের বিষয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যার বাইরে ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘মহাসত্যের আহ্বান’ এবং ‘এ ইসলাম ইসলামই নয়’ গ্রন্থে এসব ইবাদতকে প্রচলিত অর্থের বাইরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিছু প্রকাশনায় তাওহীদ ও জিহাদকে ইবাদতের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নামাজকে জিহাদের প্রস্তুতি এবং হজকে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

ইসলামি গবেষকদের বক্তব্য হলো, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত ইসলামের মৌলিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর বিধান কোরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। তাই এগুলোর মূল কাঠামো ও অর্থ পরিবর্তন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন: মুসলমান দলে দলে বিভক্ত হওয়া কেমন গুনাহ?

সুন্নাহর অবস্থান নিয়ে বিতর্ক

হেযবুত তওহীদের কিছু প্রকাশনায় দাড়ি রাখা, টুপি পরা, মেসওয়াক করা ও টাখনুর ওপর কাপড় পরার মতো সুন্নাহকে গৌণ বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

‘এ ইসলাম ইসলামই নয়’ গ্রন্থের বিভিন্ন অংশের বরাতে এসব বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রিয় দেশবাসী’ গ্রন্থে গান, নৃত্য ও নাটককে বিশেষ পরিস্থিতিতে ইবাদতের পর্যায়ের বিষয় হিসেবে বিবেচনার কথাও আলোচনায় এসেছে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ মুসলিম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কোনো সুন্নাহকে তুচ্ছ বা গুরুত্বহীন হিসেবে উপস্থাপন করা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মোজেজার দাবি নিয়ে বিতর্ক

হেযবুত তওহীদের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০০৮ সালের একটি ভাষণকে বিশেষ ঐশী সত্যায়নের নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারির ওই বক্তব্যকে বায়াজীদ খান পন্নী আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ নিদর্শন বা ‘মোজেজা’ হিসেবে দাবি করেছেন। সংগঠনটির কিছু প্রকাশনায় এটিকে হেযবুত তওহীদের সত্যতা এবং নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

‘গঠনতন্ত্র’ এবং ‘আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা’ গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন।

ইসলামি গবেষকদের মতে, ইসলামি আকিদা অনুযায়ী মোজেজা নবী-রাসুলদের সত্যতার বিশেষ নিদর্শন। তাই নবুয়তের সমাপ্তির পর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের জন্য এ ধরনের ঐশী সত্যায়নের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে তাঁরা মনে করেন।

দাজ্জাল বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা

দাজ্জাল প্রসঙ্গেও হেযবুত তওহীদের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, সংগঠনটির কিছু প্রকাশনায় দাজ্জালকে কেয়ামতের পূর্বে আগমনকারী নির্দিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং ‘ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতা’ বা একটি সভ্যতাগত ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা অনুযায়ী দাজ্জাল একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, যার আগমনের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) থেকে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের মতে, এ বিষয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যার বাইরে ভিন্ন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।

আর পড়ুন: ভ্রান্ত আকিদা থেকে দূরে থাকার আহ্বান শায়খ সুদাইসের

শহীদের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা

হেযবুত তওহীদের কিছু প্রকাশনায় সংগঠনের সদস্যদের বিশেষ মর্যাদার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বদর ও ওহুদের শহীদদের মর্যাদার সঙ্গে তুলনামূলক কিছু বক্তব্যের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

এ বিষয়ে একটি বর্ণনাকে হাদীস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন।

তবে ইসলামি গবেষকদের বক্তব্য হলো, কোনো হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে তার সূত্র ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। তাঁদের দাবি, আলোচিত বর্ণনাটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং তা প্রচলিত নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থে পাওয়া যায় না।

তাঁদের মতে, শহীদের মর্যাদা শরিয়তের নির্ধারিত নীতিমালা ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।

হাদিস ও ঐতিহাসিক ঘটনা ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি

হেযবুত তওহীদের কিছু বক্তব্যে ঐতিহাসিক ঘটনা ও হাদিসের ব্যাখ্যা নিয়েও ইসলামি গবেষকরা আপত্তি জানিয়েছেন-

নাজাশী (রা.)-এর ঘটনা

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাবশার বাদশাহ নাজাশী (রা.) সম্পর্কে হেযবুত তওহীদের কিছু বক্তব্যে বলা হয়েছে, তিনি ইসলাম গ্রহণ না করেও জান্নাত লাভ করেছেন।

ইসলামি গবেষকদের মতে, ঐতিহাসিক বর্ণনা ও হাদিসের আলোকে নাজাশী (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর গায়েবানা জানাজার নামাজ আদায় করেছিলেন। এ বিষয়ে সহিহ বুখারিসহ বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়।

যুদ্ধকালীন নামাজ প্রসঙ্গ

গবেষণায় বলা হয়েছে, হেযবুত তওহীদের কিছু বক্তব্যে যুদ্ধের সময় সাহাবায়ে কেরাম নামাজ আদায় করতেন না—এমন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে।

ইসলামি গবেষকরা এ বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, কোরআনে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে, যা ‘সালাতুল খাওফ’ নামে পরিচিত। তাঁরা এ বিষয়ে সুরা নিসার ১০১–১০২ নম্বর আয়াতকে দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন।

‘সবুজ দেশ’ সংক্রান্ত বর্ণনা

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের পূর্বদিকে একটি ‘সবুজ দেশ’ থেকে ইসলাম পুনর্জাগরণের বিষয়ে একটি বর্ণনা হেযবুত তওহীদের প্রকাশনায় উদ্ধৃত হয়েছে। ইসলামি গবেষকদের দাবি, এ বর্ণনার নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি। গবেষকদের দাবি, এ বর্ণনার নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য

হেযবুত তওহীদের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও গবেষণায় কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের দাবি, সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণের অঙ্গীকারপত্রে সংগঠনের আদর্শ ও নির্দেশনার প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংগঠনের বাইরের মানুষ ও প্রচলিত আলেম সমাজ সম্পর্কে কিছু সমালোচনামূলক বক্তব্য তাদের প্রকাশনায় রয়েছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, কোনো ধর্মীয় সংগঠনের চিন্তাধারা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তার আকিদা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও প্রচারপদ্ধতিকে কোরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং উম্মাহর গ্রহণযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

হেযবুত তওহীদের নিজস্ব অবস্থান

হেযবুত তওহীদ নিজেদের ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করা একটি ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন হিসেবে পরিচয় দেয়।

সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, তারা তাওহীদের ভিত্তিতে সমাজ গঠন, ইসলামের মূল শিক্ষা প্রচার এবং জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করছে। তাদের দাবি, প্রচলিত মুসলিম সমাজে ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে যে বিচ্যুতি সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করাই তাদের উদ্দেশ্য।

সারকথা, হেযবুত তওহীদের মতাদর্শ নিয়ে বিতর্কের মূল বিষয় হলো তাদের কিছু আকীদাগত ব্যাখ্যা ও ধর্মীয় বক্তব্য। ইসলামি গবেষকদের বড় অংশের মতে, এসব ব্যাখ্যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের প্রচলিত মতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে সংগঠনটি নিজেদের ব্যাখ্যাকে ইসলামের সঠিক উপলব্ধি হিসেবে উপস্থাপন করে। এ বিষয়ে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য গবেষণা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র
১. মাসিক আল কাউসার ও মাসিক আত-তাহরীকের গবেষণা
২. বায়াজীদ খান পন্নীর প্রকাশিত গ্রন্থ ও হেযবুত তওহীদের নিজস্ব প্রকাশনা

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর