বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

লক্ষ্যভিত্তিক কাজের পাশাপাশি বন্যার্তদের পাশে হাসানাহ ফাউন্ডেশন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

লক্ষ্যভিত্তিক কাজের পাশাপাশি বন্যার্তদের পাশে হাসানাহ ফাউন্ডেশন

নিজস্ব লক্ষ্য ও কর্মপরিধি ঠিক রেখেই বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ নিয়েছে হাসানাহ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সীমিত পরিসরে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজে যুক্ত হবে হাসানাহ ফাউন্ডেশন।

নিজের ফেসবুক পোস্টে আজহারী বলেন, বর্তমান যুগ বিশেষায়নের যুগ। তাই সব প্রতিষ্ঠানকে সব খাতে কাজ করতে হবে—এমন প্রত্যাশা না করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ লক্ষ্য, নীতিমালা ও কর্মপরিধির মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা উচিত।

তিনি বলেন, বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যারা ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা রয়েছে। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী হাসানাহ ফাউন্ডেশনের কাছ থেকেও একই ধরনের উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছেন। তাদের ভালোবাসা ও আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

আজহারী জানান, হাসানাহ ফাউন্ডেশন শুরু থেকেই শিক্ষা, মূল্যবোধ ও প্রজন্ম গঠনের দীর্ঘমেয়াদি কাজে নিজেদের নিবেদিত রেখেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুর্যোগকবলিত মানুষের কষ্টে তারা নীরব থাকবে। ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্যাকবলিত এলাকার জন্য বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম

হাসানাহ ফাউন্ডেশনের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে আজহারী বলেন, গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে কুরআন অলিম্পিয়াড ও সিরাত অলিম্পিয়াডের মতো জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। হাদিস অলিম্পিয়াড আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।

আরও পড়ুন: মিজানুর রহমান আজহারীর নামে পেজ খুলে প্রতারণা, গ্রেফতার ১০

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স ডিজাইনের অংশ হিসেবে আরবি ভাষা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের কনফারেন্স রুমে কয়েকটি কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

একটি সমন্বিত শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময় চলছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আর্লি চাইল্ড এডুকেশন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে।

নওমুসলিমদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজন

পোস্টে আজহারী বাংলাদেশে নওমুসলিম ভাই-বোনদের জন্য সুপরিকল্পিত একটি স্বতন্ত্র সহায়তা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, শুধু আবেগঘন মুহূর্তে আর্থিক সহায়তা নয়; বরং তাদের মৌলিক দ্বীন শিক্ষা, নিয়মিত তারবিয়াহ (প্রশিক্ষণ) এবং সামাজিক পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তার মতে, একটি নির্দিষ্ট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ডেডিকেটেড প্রতিষ্ঠান ও ফোকাসড কাজের বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: বন্যায় ঘরহারা ৩০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেবে আস-সুন্নাহ

অর্থব্যয় ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে

হাসানাহ ফাউন্ডেশনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আজহারী জানান, তার ব্যক্তিগত অর্থায়নেই ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি একটি অলাভজনক ও সরকার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। ফাউন্ডেশন থেকে তিনি নিজে কিংবা ট্রাস্টি বোর্ডের কোনো সদস্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন না। বরং প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা নিজেরাও ব্যক্তিগতভাবে নিয়মিত অনুদান দিয়ে আসছেন।

আজহারী আরও বলেন, ফাউন্ডেশনের প্রতিটি অর্থব্যয় নিরীক্ষা ও অডিটের আওতাভুক্ত। প্রথম বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট একটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। দাতাদের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে দেওয়া অর্থ অন্য কোনো খাতে ব্যয় করার সুযোগ বা নৈতিক অধিকার নেই।

তিনি বলেন, আমানতের হক আদায় করা তাদের জন্য একটি নীতিগত ও শরয়ি দায়িত্ব।

দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করাই টেকসই পথ

পোস্টের শেষাংশে আজহারী বলেন, যে জাতি দায়িত্বের বিভাজন বুঝে, লক্ষ্যভিত্তিক কাজের মূল্যায়ন করে, সেই জাতিই টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সফলতার পথে এগিয়ে যায়।

তিনি মনে করেন, নিজ নিজ লক্ষ্য ও দায়িত্বে অটল থাকাই সম্মিলিত উন্নয়নের সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই পথ।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর