ব্যক্তিশ্রেণির কোনো করদাতা তার আয়ের নির্দিষ্ট অংশ ‘সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টে’ দান করলে ওই অংশের ওপর আয়কর দিতে হবে না—এমন বিধান আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থবিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এ সুবিধা পাওয়ার শর্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট দান অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণার অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ইমাম-পুরোহিতদের জন্য সুখবর: বরাদ্দ ১ হাজার ৮১ কোটি
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্ট কিছু ট্রাস্টে দান করলে কর রেয়াত সুবিধা পাওয়া যেত। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওই সুবিধা বাতিল করা হয়। তবে গত অর্থবছরে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে দানকৃত অর্থের ওপর কর রেয়াত পুনরায় কার্যকর করা হয়। নতুন অর্থবিলে ‘সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট’ যুক্ত হওয়ায় এ তালিকা আরও সম্প্রসারিত হলো।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২ অনুযায়ী গঠিত বা পরিচালিত তহবিলে দান করলেও কর রেয়াত পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানির জন্য দানের সর্বোচ্চ সীমা হবে আয়ের ১০ শতাংশ বা ৮ কোটি টাকা, এর মধ্যে যেটি কম। আর কোম্পানি ছাড়া অন্য করদাতাদের জন্য সীমা হবে আয়ের ১০ শতাংশ বা ১ কোটি টাকা, এর মধ্যে যেটি কম।
আরও পড়ুন: ৩ বছরে ৩ সরকারের ৩ বাজেট, অর্থনীতির নতুন পরীক্ষায় বিএনপি
বিজ্ঞাপন
পাশাপাশি সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত কোনো বালিকা বিদ্যালয় বা মহিলা কলেজে দান করলেও কর রেয়াতের সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় কর রেয়াত সুবিধা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিলেও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেননি। তবে ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় কর রেয়াত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, করদাতাদের দাতব্য ও জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করতে স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী সেবা, ক্যান্সার, অটিজম, ডায়াবেটিস, থ্যালাসেমিয়া এবং সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে।




