পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অতীতের বহু জাতির ধ্বংসের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আদ, সামুদ, লুত (আ.)-এর জাতি ও ফেরাউনের সম্প্রদায় তাদের অবাধ্যতার কারণে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিল। তবে কোরআন-হাদিস থেকে স্পষ্ট, আল্লাহ তাআলা কোনো জাতিকে আকস্মিকভাবে ধ্বংস করেন না; বরং আগে থেকেই সতর্ক করেন এবং ফিরে আসার সুযোগ দেন।
রাসুল পাঠিয়ে সতর্ক করা
আল্লাহর প্রথম সতর্কতা আসে নবী-রাসুলের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো রাসুল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দিই না।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ১৫)
অন্য আয়াতে এসেছে, ‘কোনো জাতি এমন নেই, যেখানে সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি।’ (সুরা ফাতির: ২৪)
এমনকি কোনো জাতি দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকলেও আল্লাহ তাদের শাস্তি দেন না। তিনি বলেন, ‘এটি এজন্যে যে, অধিবাসীরা যখন গাফেল থাকে, তখন জনপদসমূহকে অন্যায়ের জন্য ধ্বংস করা আপনার রবের কাজ নয়।’ (সুরা আনআম: ১৩১)
বিপদ ও সংকট পাঠিয়ে সতর্ক করা
রাসুলের সতর্কবার্তা উপেক্ষিত হলে আল্লাহ দুর্ভিক্ষ, বিপদ ও সংকটের মাধ্যমে জাতিকে জাগিয়ে তোলেন। তিনি বলেন, ‘তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-শোক দ্বারা পীড়িত করেছি, যাতে তারা বিনয়ী হয়।’ (সুরা আনআম: ৪২)
আরও পড়ুন: সর্বদা ইস্তেগফার: আল্লাহর নৈকট্য ও সংকটমুক্ত জীবনের চাবিকাঠি
বিজ্ঞাপন
সমাজের ভালো মানুষদের মাধ্যমে সতর্ক করা
আল্লাহ সমাজের নেককার ও সচেতন মানুষদের মাধ্যমেও সতর্কবার্তা পৌঁছান। নবী (স.) বলেছেন, ‘মানুষ যদি কোনো অত্যাচারীকে অত্যাচারে লিপ্ত দেখেও তার দুহাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করে তাহলে আল্লাহ তাআলা শীঘ্রই তাদের সকলকে ব্যাপক শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত করবেন।’ (জামে তিরমিজি: ২১৬৮; সুনানে আবু দাউদ: ৪৩৩৮)
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা সেই ফিতনাকে ভয় করো, যা শুধু তোমাদের মধ্যকার শুধু জালিমদের ওপরই আপতিত হবে না...।’ (সুরা আনফাল: ২৫)
সব সতর্কতার পরও না ফিরলে যা হয়
সব সুযোগ দেওয়ার পরও কোনো জাতি যখন অহংকারে অটল থাকে, তখন আল্লাহ উল্টো তাদের ভোগ-সম্পদ বাড়িয়ে দেন, যা আসলে চূড়ান্ত পাকড়াওয়ের আগের শেষ ধাপ। তিনি বলেন, ‘অতঃপর যখন তারা তাদেরকে যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের জন্য সবকিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তারা প্রদত্ত বিষয়ে উল্লসিত হলো, তখন আমি হঠাৎ তাদের পাকড়াও করলাম।’ (সুরা আনআম: ৪৪)
আরও পড়ুন: তাওবা কবুলের জন্য যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
কেয়ামতের দিন জাহান্নামিদের জিজ্ঞেস করা হবে, ‘তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?’ তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, এসেছিল; কিন্তু আমরা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছি।’ (সুরা মুলক: ৮-৯)
মনে রাখা জরুরি, কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগ বা বিপদকে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর শাস্তি বলে ঘোষণা করার অধিকার মানুষের নেই, কারণ গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর। তবে কোরআন-হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, পাপাচার ও জুলুমের বিস্তার এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা আল্লাহর শাস্তির কারণ হতে পারে। তাই প্রত্যেক ব্যক্তি ও সমাজের কর্তব্য হলো তওবা, ইস্তেগফার, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং আল্লাহর বিধানের দিকে ফিরে আসা।




