হজ মৌসুমে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ না নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব। উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হজ ব্যাহত হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই রিয়াদের এই কূটনৈতিক তৎপরতা বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
বুধবার প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের হজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি মুসল্লির অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে ওয়াশিংটনকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদির পাশাপাশি কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারাও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে একই উদ্বেগ তুলে ধরেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা চালালে তেহরান পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ শেষ করতে রাজি: পেজেশকিয়ান
সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো “ঐক্যবদ্ধ অবস্থান” নিয়েছে এবং হজ মৌসুমকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল সময় হিসেবে তুলে ধরেছে।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের হজ ২৪ মে শুরু হয়ে ছয় দিন পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, হজ ও ঈদুল আজহার আগের পবিত্র সময়ে সামরিক অভিযান চালানো হলে তা মুসলিম বিশ্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন উপসাগরীয় কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে সৌদি আরবের জন্য নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলো এবং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া থেকে হজযাত্রীদের যাতায়াতও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই বিজয় দাবি, আসলে জিতলো কে?
এরই মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৃহস্পতিবার ইরান সফরে যেতে পারেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, চলমান আলোচনা ‘সমঝোতা ও নতুন সামরিক সংঘাতের মধ্যবর্তী এক সংকটপূর্ণ পর্যায়ে’ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের কয়েক সপ্তাহের সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
সূত্র: দ্য নিউ আরব




