মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মসজিদ খাদেমের রাজকীয় বিদায়: ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি ফেরা, ২ লাখ টাকা সম্মানী

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

মসজিদ খাদেমের রাজকীয় বিদায়: ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি ফেরা, ২ লাখ টাকা সম্মানী

দীর্ঘ ২০ বছরের কর্মজীবন শেষে এক অনন্য ও রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন মসজিদের খাদেম মো. মুসলিম (৭০)। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় জামে মসজিদের এই খাদেমকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে ও নগদ অর্থ সম্মানী দিয়ে বিদায় জানিয়েছে মসজিদ কমিটি। একজন খাদেমের প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শনের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রায়পুর পৌর শহরে এই ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা শেষে নতুন পোশাক পরিহিত খাদেম মুসলিমকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বাদ্যি বাজিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে তাকে অভিবাদন জানান।


বিজ্ঞাপন


মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সত্তর বছর বয়সী মুসলিম রায়পুর পৌর শহরের মৌলভী ইব্রাহীম সাহেবের বাড়ির বাসিন্দা। গত দুই দশক ধরে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় জামে মসজিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দেখভালের দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি বয়সের ভার ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। তার দীর্ঘদিনের এই একনিষ্ঠ সেবাকে স্মরণীয় করে রাখতে মসজিদ কমিটি এই রাজকীয় আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

আরও পড়ুন: ইমামের বিদায়ে কাঁদল গ্রামবাসী, ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়

বিদায়ের মুহূর্তে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মসজিদের খতিব, ইমাম ও কমিটির সদস্যদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন খাদেম মুসলিম। তার দীর্ঘদিনের সখ্যতা ও নিবেদিতপ্রাণ সেবার কথা স্মরণ করে উপস্থিত মুসল্লিদের চোখেও অশ্রু দেখা দেয়।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মো. মুসলিম বলেন, ‘আমি সবসময় আল্লাহর ঘরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেছি। শরীর সায় দিচ্ছে না বলে আজ বিদায় নিতে হচ্ছে। তবে মসজিদ কমিটি আমাকে যেভাবে সম্মানিত করেছে, তা আমি কখনও কল্পনাও করিনি। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’


বিজ্ঞাপন


মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আরিফ হোসাইন মিয়াজী বলেন, ‘মুসলিম ভাই ২০ বছর ধরে এই মসজিদের প্রাণ ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং সবার প্রিয়। তার মতো একনিষ্ঠ খাদেম পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’

আরও পড়ুন: পাবনায় মসজিদের ইমামের রাজকীয় বিদায়, কাঁদলেন মুসল্লিরাও

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, ‘আমরা চেয়েছি একজন মেহনতি মানুষকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে বিদায় দিতে। এজন্য পাশের জেলা চাঁদপুর থেকে ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে আনা হয়েছে। আমরা তার হাতে নগদ ২ লাখ টাকা সম্মানী তুলে দিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও মসজিদ কমিটি তার পাশে থাকবে।’

দীর্ঘদিন মসজিদের সেবায় নিয়োজিত একজন সাধারণ কর্মীকে এভাবে অসাধারণ সম্মানে বিদায় জানানোর এই দৃষ্টান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সামাজিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর