শরীয়তপুরে ৩৫ বছর ইমামতি করার পর ঘোড়ার গাড়িতে করে রাজকীয় ভাবে বিদায় দেওয়া হয়েছে মসজিদের ইমাম হাফেজ ওয়াজ উদ্দিন শেখক (৭৫) কে। বিদায় বেলায় মসজিদের ইমামকে সম্মানিত করার এমন উদ্যোগের কারণে প্রশংসায় ভাসছেন এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কাপাশপারা গ্রামে মসজিদের ইমামের সম্মানে এ বিরল বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বিদায় লগ্নে উপস্থিত তার হাজারখানেক মুসল্লি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিদায় বিদায় শব্দটা বেদনাদায়ক। কিন্তু সময়ের প্রেক্ষিতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়। আমরা নামাজ কালাম শিখা সহ সামাজিক যাবতীয় সমস্যাগুলো হুজুর থেকে সমাধান নিতাম। হুজুর আমাদের এবং আমাদের ছেলে-মেয়েদের কেউ কুরআন-হাদিস শিক্ষা দিয়েছে।
হুজুর অনেক ভালো লোক ছিলেন- তিনি আমাদের এলাকার জন্য একজন অনুসরণীয় ব্যক্তি হয়ে থাকবেন। কিন্তু হুজুর বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে আমাদের থেকে আজ বিদায় নিচ্ছেন যা আমরা মেনে নিতে পারছি না।
উপস্থিত এক মুসল্লি আশরাফ ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি হুজুর এর কাছ থেকেই হাদিস কোরআন মাজিদ শিখেছি। আমার ছোট বাচ্চাও শিখেছে তাই হুজুরের প্রতি অন্যরকম একটা ভালোবাসা আমার। হুজুর এর জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে কিন্তু অসুস্থতার জন্য তার চলে যেতে হচ্ছে।
মসজিদের সভাপতি মো. রাসেদুজ্জুমান খান ঢাকা মেইলকে বলেন, ইমাম সাহেব শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কাপাশপাড়া বাইতূন নূর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দীর্ঘ ৩৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ৩৫ বছরের মধ্যে তিনি গ্রামবাসীর সঙ্গে মিশে গেছেন। এখন তিনি বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। এ অবস্থায় তার বিদায় নিতে হচ্ছে। বিদায় বেদনার হলেও এলাকাবাসী তা কষ্টে মেনে নেন এবং তার সম্মানে আয়োজন করেন রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার।
বিজ্ঞাপন
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইমামকে দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা ও উপহার সামগ্রী। পরে তাকে ঘোড়ার গাড়ির বহরে করে রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয়। এ সময় এলাকার মুরব্বিসহ সর্বস্তরের মানুষ কান্না ভেজা চোখে প্রিয় ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে করে তার বাড়ি নড়িয়া উপজেলার ভোজেস্বর ইউনিয়নের উপসি গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসেন।
প্রতিনিধি/ এজে




