সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

শাওয়াল মাসে ছয় রোজার বাইরেও কিছু ফজিলতপূর্ণ আমল

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

শাওয়াল মাসে ছয় রোজার বাইরেও কিছু ফজিলতপূর্ণ আমল

পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনার পর মুমিনের জীবনে রহমত ও বরকতের নতুন বার্তা নিয়ে আসে শাওয়াল মাস। সাধারণত এই মাসে ‘ছয় রোজা’ রাখার প্রতি মানুষের বিশেষ আগ্রহ থাকে। তবে শুধু রোজা নয়, শাওয়াল মাস হলো রমজানের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নতুন করে আধ্যাত্মিক পথচলার সূচনা। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই মাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আমল ও তাৎপর্য নিচে তুলে ধরা হলো।

১. হজের প্রস্তুতি ও নিয়মাবলী শিক্ষা

শাওয়াল মাস হলো ‘আশহুরুল হজ’ বা হজের নির্দিষ্ট মাসসমূহের প্রথম মাস। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ‘হজের মাসগুলো সুনির্দিষ্ট।’ (সুরা বাকারা: ১৯৭)
 
ইমাম কুরতুবি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, হজের মাস হলো শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিন। ফলে শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার অর্থ হলো হজের পবিত্র সফরের সময় গণনা শুরু হওয়া। যারা হজে যাওয়ার নিয়ত করেছেন, তাদের জন্য এই মাস থেকেই হজের প্রস্তুতি নেওয়া এবং হজের আহকাম বা নিয়মাবলী শেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

আরও পড়ুন: হজ ফরজ হওয়ার শর্ত, গুরুত্ব ও ফজিলত

২. সুন্নাহর অনুসরণে বিয়ে ও কুসংস্কার বিলোপ

জাহেলি যুগে শাওয়াল মাসকে অশুভ মনে করা হতো এবং এই মাসে বিয়ে-শাদি থেকে বিরত থাকা হতো। ইসলাম এই অমূলক ধারণা ও কুসংস্কার ভেঙে দিয়েছে। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘রাসুলুল্লাহ (স.) আমাকে শাওয়াল মাসে বিয়ে করেছেন এবং শাওয়াল মাসেই আমার বাসর হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম: ১৪২৩)
মুহাদ্দিসগণের মতে, শাওয়াল মাসে বিয়ে করা জায়েজ এবং এটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর পবিত্র সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। মূলত সমাজ থেকে অশুভ দিনের কুসংস্কার দূর করার জন্য এই মাসে শুভ কাজ সম্পন্ন করা একটি উত্তম আমল।


বিজ্ঞাপন


৩. কাজা রোজা আদায়ে অগ্রাধিকার

রমজানের অসুস্থতা, সফর বা অন্যকোনো সংগত কারণে যাদের রোজা কাজা হয়েছে, শাওয়ালের নফল রোজার চেয়ে সেই ফরজ কাজা আদায় করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। সাহাবায়ে কেরাম ও ফকিহগণের মতে, নফল ইবাদতের চেয়ে ফরজের দায়িত্ব থেকে আগে মুক্ত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। যাদের জিম্মায় ফরজ রোজা বাকি আছে, তাদের জন্য যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করার চেষ্টা করা উচিত।

আরও পড়ুন: 'শাওয়ালের ৬ রোজা' কাজা রোজার আগে নাকি পরে?

৪. ইবাদতের ধারাবাহিকতা রক্ষা (ইস্তিকামাত)

রমজানের ইবাদতের প্রভাব সারা বছর ধরে রাখাই হলো রোজার প্রকৃত সার্থকতা। রমজান শেষ হওয়ার সাথে সাথে নেক আমল ত্যাগ না করে তা অল্প হলেও নিয়মিত করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল তা-ই, যা নিয়মিত করা হয়; যদিও তা অল্প হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৬৫)
তাহাজ্জুদ, জামাতে নামাজ এবং নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াতের যে অভ্যাস রমজানে গড়ে উঠেছে, শাওয়াল মাসে তা অব্যাহত রাখা মুমিনের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।

৫. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও আত্মীয়তা রক্ষা

রমজানে ইবাদত করার তাওফিক পাওয়ায় শাওয়াল মাস জুড়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত। এছাড়া ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম নির্দেশ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখলে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির রিজিক বৃদ্ধি করেন এবং তার আয়ুতে বরকত দান করেন। (সহিহ বুখারি: ৫৯৮৫)

আরও পড়ুন: আত্মীয়তা রক্ষা করলে আল্লাহ সুসম্পর্ক রাখেন

৬. অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো

রমজানে জাকাত ও সদকাতুল ফিতর দেওয়া হলেও শাওয়াল মাসেও সাধারণ দান-সদকার হাত প্রশস্ত রাখা উচিত। রমজান পরবর্তী সময়ে অভাবী মানুষের কষ্ট লাঘবে সহায়তা করা ইবাদতেরই একটি অংশ।

রমজান শেষ হলেও মুমিনের ইবাদত শেষ হয় না, বরং রমজানের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বাস্তব পরীক্ষা শুরু হয় শাওয়াল মাস থেকেই। শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখার পাশাপাশি হজের প্রস্তুতি, সামাজিক সুসম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ইবাদতে অবিচল থাকার মাধ্যমেই এই মাসের প্রকৃত কল্যাণ ও ফজিলত অর্জন করা সম্ভব।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর