রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আসা পবিত্র মাহে রমজান এখন বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। পহেলা রমজানের সেই নতুন চাঁদ দেখে মুমিন হৃদয়ে যে উদ্দীপনা জেগেছিল, আজ শেষ সময়ে এসে তা বিদায়ের এক গাম্ভীর্যপূর্ণ আবহে পরিণত হয়েছে। ঘড়ির কাঁটা আর ক্যালেন্ডারের পাতা সাক্ষ্য দিচ্ছে- ফুরিয়ে আসছে সিয়াম সাধনার দিনগুলো। রমজান বিদায়ের এই সময়টি প্রতিটি মুমিনের জন্য গভীর আত্মজিজ্ঞাসার সুযোগ করে দেয়- মাসটি শেষ হওয়ার আগে আমরা কি কাঙ্ক্ষিত ক্ষমা অর্জন করতে পেরেছি?
আত্মজিজ্ঞাসার মাহেন্দ্রক্ষণ
রমজান মূলত মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার মাস। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একদা জিবরাঈল (আ.) দোয়া করেছিলেন- ‘ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি, যে রমজান মাস পেল অথচ নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না।’ আর রাসুলুল্লাহ (স.) তাতে ‘আমিন’ বলেছিলেন। রমজানের এই শেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের ভাবার সময় এসেছে, আমরা কি সেই দুর্ভাগাদের দলে রয়ে গেলাম, নাকি সৌভাগ্যবানদের তালিকায় নাম লেখাতে পারলাম?
প্রাপ্তির খাতা ও আমলের হিসাব
গত দিনগুলো আমাদের কেমন কেটেছে? আমরা কি পেরেছি আমাদের প্রতিটি ইন্দ্রিয়কে পাপাচার থেকে মুক্ত রাখতে? তারাবি, তাহাজ্জুদ আর কোরআন তেলাওয়াত কি কেবলই রুটিনমাফিক কাজ ছিল, নাকি তাতে ছিল ঐকান্তিক নিষ্ঠা? রমজানের আগ মুহূর্তের ‘আমি’ আর বিদায় মুহূর্তের ‘আমি’র মধ্যে যদি ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন না আসে, তবে আমাদের প্রাপ্তির খাতা নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাড়ি ফেরার তাড়ায় রমজানের শেষ মুহূর্তের ইবাদত ভুলবেন না
বিজ্ঞাপন
শেষ সুযোগের সদ্ব্যবহার
যারা গত দিনগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী ইবাদত করতে পারেননি, তাদের জন্যও নিরাশার অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ পরম দয়ালু। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ‘ইবাদতের সার্থকতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার সুন্দর সমাপ্তির ওপর।’ রমজানের এই বিদায়ী প্রহরগুলো, বিশেষ করে শেষ দশকের এই গুরুত্বপূর্ণ রাতগুলো হতে পারে জীবনের মোড় ঘোরানোর শ্রেষ্ঠ সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (স.) রমজানের শেষ দশকে ইবাদতে যে একাগ্রতা প্রদর্শন করতেন, তা অন্য কোনো সময়ে দেখা যেত না। তাই শেষ মুহূর্তগুলোতে অনুতপ্ত চিত্তে দোয়া ও তওবা করার সুযোগটি কাজে লাগানো জরুরি।
ক্ষমা পাওয়ার নিদর্শন
ক্ষমা পাওয়ার কোনো দৃশ্যমান নিশ্চয়তা আমাদের হাতে নেই, তবে আলেমগণ কিছু লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন। যদি অন্তরে পাপের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয়, ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং রমজানের পরও নেক আমলগুলো ধরে রাখার মানসিকতা তৈরি হয়- তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ আমাদের আমল কবুল করেছেন।
আরও পড়ুন: রমজানের শেষ দশকে যেসব আমলে গুরুত্ব দিতেন নবীজি (স.)
রমজান চলে যাবে, আসবে আবার আগামী বছর। কিন্তু আমরা কি সেই রমজান পাওয়ার জন্য বেঁচে থাকব- তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই অনিশ্চয়তাই আমাদের আরও দায়বদ্ধ করে তোলে। তাই কেনাকাটা বা উৎসবের প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেও শেষ মুহূর্তগুলো ইবাদত ও তওবায় কাটানোই হতে পারে আমাদের জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত।
হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এই ক্ষুদ্র আমলগুলো কবুল করুন এবং গুনাহমুক্ত জীবনের সংকল্পকে দৃঢ় করে দিন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের শেষ সময়ে প্রকৃত তওবা ও মাগফিরাত নসিব করুন। আমিন।

